মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে মোবাইল কার্ডের সিম। সিমের মালিকানা পরিবর্তনের নিয়ম হয়তোবা অনেকেরই জানা নেই। অনেক সময় অন্য কারো ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে সিম কেনা অথবা নিজের সিমটি অন্য কাউকে দেওয়ার জন্য সিমটি আরেকজনের নামে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
এর জন্য রয়েছে যথাযথ এবং সুনির্দিষ্ট নিয়ম যা আমাদের অনেকেরই জানা নেই। শুধুমাত্র এই ছোট অসচেতনতার কারণে অনেক সময় বড় বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। কারণ আমরা এখন মোবাইলে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকি। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সিমটি হঠাৎ করেই বাদ দেওয়া সম্ভব হয় না।
সিমের মালিকানা পরিবর্তনের নিয়ম ২০২৬
ভোটার আইডি কার্ড না থাকার কারণে বাবা মা কিংবা পরিবারে অন্য কোন সদস্যদের কার ব্যবহার করে আমরা অনেক সময় সিম ক্রয় করেছি। এখন নিজের ভোটার আইডি কার্ড হওয়ার ফলে সেই সিমটির মালিকানা পরিবর্তন করে নিজের নামে করতে চাই। কিন্তু জানেন না কিভাবে এবং কোথায় এটা করা যায়। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।
সিমের মালিকানা পরিবর্তনের খরচ
সবার আগে সিমের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য কোন চার্জ এবং খরচ আছে কিনা তার সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। নিচে বাংলাদেশের প্রায় সকল অপারেটরের সিমের মালিকানা পরিবর্তনের খরচ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হল।
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অপারেটর গ্রামীণফোনের সিমের মালিকানা পরিবর্তন করতে ১১৫ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এমনকি বাংলালিংক এবং টেলিটকের ক্ষেত্রেও কাছাকাছি ধরনের চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কোন গ্রাহক যদি ডোর স্টেপ সার্ভিস নিতে চায় অর্থাৎ বাসায় বসে সিমটির মালিকানা পরিবর্তন করে দিতে চায় তাহলে চার্জ আরো কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে সব সময় মনে রাখবেন এই চার্জ যে সবসময় একই থাকবে বিষয়টি তা নয়। যেমন বর্তমানে রবি এবং এয়ারটেল সিমের মালিকানা পরিবর্তন ফ্রি। তবে অপারেটর চাইলে যে কোন সময় এই ফি এর পরিমাণ পরিবর্তন কিংবা ফ্রী করতে করে দিতে পারে।
কাস্টমার কেয়ার গুলোতে সাধারণত ফ্রি করা গেলেও বাইরে কোন দোকান হতে এটি পরিবর্তন করতে গেলে কিছু চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। আবার সিম অপারেটর চাইলে কাস্টমার কেয়ারেও চার্জ নিতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে কল দিয়ে ভালোভাবে জেনে নিতে পারেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সিমের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য বেশি কোন কাগজপত্র প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র যারা আইডিতে ইতিমধ্যে সিমটি রয়েছে তার ভোটার আইডি কার্ড এবং যার নামে সিমটির ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে তার ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন হবে। কাস্টমার সার্ভিস অথবা প্রতিনিধি দোকান হতে এই মালিকানা পরিবর্তন করার জন্য অবশ্যই দুইজনকে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে।
সিমের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
দুইজন কাস্টমার কেয়ারে উপস্থিত হওয়ার পর প্রতিনিধিকে বলতে হবে যে আপনি আপনার সিমের মালিকানা পরিবর্তন করতে চান। তারপর তারা সিমের নম্বর এবং ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য জানতে চাইবে। তারপরের ধাপে উভয়ে ব্যক্তির অর্থাৎ যার নামে ইতিমধ্যে রয়েছে এবং যার নামে ট্রান্সফার করা হবে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার প্রয়োজন হবে। এই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকানা আপডেট হয়ে যাবে।
মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য
যদি কোন সিমের বর্তমান মালিক মারা গিয়ে থাকে তাহলে সেই সিমের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই মৃত্যুর সনদ এবং উত্তরাধিকার সনদ প্রয়োজন হবে।
আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে সিমের একটি অন্য কারো নামে ট্রান্সফার করে দিলে বিকাশ কিংবা রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট অটোমোটিক বন্ধ বা পরিবর্তন হয় না। তাই এই অ্যাকাউন্টগুলি আগে থেকেই আপডেট করে রাখুন। আর মালিকানা পরিবর্তনের সময় অবশ্যই ফিঙ্গারপ্রিন্ট কিংবা আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক।