টাকা জমানোর জাদুকরী কৌশল | ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবস্থাপনা

অযথা খরচ না করে ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো আসলে কোন কৃপণতা নয়। বরং এটি একদিকে যেমন জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে অপরদিকে বড় কোন জায়গায় ইনভেস্ট করেও সম্পদ বৃদ্ধি করা যায়। আয় যতই হোক না কেন টাকার জমানোর উপায় জানা না থাকলে কখনোই বড় অংকের অর্থ একসাথে করা সম্ভব নয়।

টাকা জমানোর সহজ উপায়

যারা চিন্তা করছেন এখন থেকে প্রতিনিয়ত কিছু কিছু করে টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করবেন বা অন্য কোন ভাবে জমাবেন তাদের জন্য আজকের লেখাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এমন কিছু জাদুকরী কৌশল আলোচনা করব যা আপনি আগে কখনোই শোনেননি বা চিন্তাও করেননি। তাই নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে লিখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

১. সবার আগে সঞ্চয়

কেউ যদি মনে করে সারা মাস টাকা খরচ করে যেটাকে অবশিষ্ট থাকবে সেটি জমাবো তাহলে তিনি কখনোই টাকা জমাতে পারবেন না। যখনই বেতন পাবেন কিংবা বিজনেসের টাকা হাতে পাবেন তখন সেখান থেকে কমপক্ষে 20% অর্থ আলাদা করে রাখুন। তারপর বাকি টাকা থেকে সারা মাস প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করুন।

২. ছোট ছোট ধাপে এগোন

একেবারেই অনেক টাকা একসাথে রাখা সম্ভব নয়। তাই হাতের কাছে বাড়তি যা অর্থ থাকে তাই জমা রেখে দেন। সেটি হতে পারে ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকা। এভাবে ধীরে ধীরে এগোতে থাকুন।

৩. অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধ করুন

আমাদের জীবনের অনেক অর্থই আছে যা কিনা খরচ না করলেও ভালোভাবে চলতে পারে। যেমন বড় কোন মিডিয়া প্লাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন কেনা, যত্রতত্র মার্কেট করা, বাইরে নিয়মিত দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া ইত্যাদি। এখান থেকে যদি কিছু অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেন তাহলে মাস শেষে অন্ততপক্ষে কয়েক হাজার টাকা বাঁচবে।

৪. ঋণ গ্রহণ

যে জিনিসটি আপনার কাছে এখন নেই সেটি কেনার জন্য কখনোই ঋণ নিবেন না। কারণ লোন আমাদের আর্থিক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়। তাই প্রয়োজনীয় কিছু কেনার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করুন যাতে করে ঋণের ফাঁদে না পড়তে হয়।

৫. ইমার্জেন্সি ফান্ড

ধরুন চাকরি নেই অথবা ব্যবসায় লস খেয়েছেন। এ ধরনের সিচুয়েশনের জন্য অন্ততপক্ষে তিন মাস পরিবার নিয়ে চলতে পারেন তার জন্য একটি ইমারজেন্সি ফান্ড প্রস্তুত রাখুন। এতে করে যে কোন ধরনের পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।

৬. ডিসকাউন্টের ফাঁদ

টাকা জমানোর উপায় গুলোর মধ্যে একটি বাধা হচ্ছে ডিসকাউন্টে কেনাকাটা করা। বিভিন্ন সুপার শপ কিংবা শপিংমলে প্রায়ই দেখি বেশ ধামাকা অফার দেওয়া হয়ে থাকে। এই ধরনের লোভনীয় অফার দেখে প্রয়োজন নেই সত্ত্বেও অনেক জিনিস কেনা হয়। তাই এই ফাঁদটি এড়িয়ে চলুন।

৭. মিনিমাল লাইফ স্টাইল

ধনী হওয়ার সহজ উপায় বা মাসিক বাজার খরচ কমানোর জন্য মিনিমালিজম লাইফস্টাইল খুবই কার্যকরী। প্রয়োজন নেই কিংবা আগামী ২-৩ মাসের প্রয়োজন হবে না এমন জিনিস না কেনা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস ক্রয় না করাই মিনিমাল লাইফস্টাইল। এমন কি ঘরের অতিরিক্ত ফার্নিচার না কেনাই ভালো। এতে করে টাকার পাশাপাশি রক্ষনাবেক্ষণের সময়ও বাঁচবে।

৮. হিসাব রাখা

সকল আয় ব্যয়ের একটি সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখা ভালো অভ্যাস। এতে করে মাস শেষে বোঝা যায় কোন খাতে বেশি খরচ হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

ছাত্রজীবনে টাকা জমানোর টিপস

প্রকৃতিতে অবস্থিত ছোট মৌমাছি কিংবা পিঁপড়াও ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে। আর আমরা তো মানুষ আমাদের রয়েছে নানা ধরনের সব চাহিদা স্বপ্ন। কিন্তু এগুলো পূরণ করার জন্য অবশ্যই টাকা সঞ্চয় করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় পার করার পরে সবারই আকাঙ্ক্ষা থাকে কোন বিজনেস শুরু করা অথবা ভালো কোন চাকরিতে ঢোকা। কিন্তু দেশের প্রেক্ষাপটে ভালো একটি চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন। সে সময়টাতে একদিকে বেকারত্ব অপরদিকে আর্থিক কষ্ট ভুগতে হয় অনেকের। তাই এই ধরনের চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে অবশ্যই ছাত্র জীবনের টাকা জীবন জমানোর টিপস জানা উচিত। চলুন সেরকমই কিছু টিপ সম্পর্কে জানি।

• একটি স্টুডেন্ট সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলুন। এতে করে একাউন্ট চার্জ কম হবে এমনকি টাকাও রাখা যাবে।
• অতিরিক্ত খরচ পরিহার করুন। বন্ধুবান্ধব নিয়ে দামি দামি রেস্টুরেন্টে যাওয়া কমিয়ে দিলে কিছু খরচ বাজবে।
• ধূমপান কিংবা চা কফি পরিত্যাগ করা ভালো।
• টিউশনি করে বেশ ভালো টাকা অর্থ উপার্জন করা যায়। ছাত্র জীবনে টাকা জমানোর উপায় হিসেবে অনেকেই টিউশনিকেই বেছে নেয়।
• নিজের পরিবার ও ভবিষ্যতের কথা সবসময় ভাবুন। এতে করে উৎসাহ পাবেন

মাসিক বাজার খরচ কমানোর উপায়

মাসিক বাজারের জন্য বাজেট কমানোর উপায় হিসেবে সবার আগে একটা সুনির্দিষ্ট তালিকা ও পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং চাহিদা অনুযায়ী আগে তালিকা তৈরি করুন কি কিনতে হবে। তারপর সেই তালিকা অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন।

যদি মনে হচ্ছে মনে হয় যে টাকার পরিমাণ বেশি হয়ে যাচ্ছে তাহলে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা করে আলাদা করে ফেলুন এবং সেটি কেনা থেকে বিরত থাকুন। যে কোন জিনিস ক্রয় করার আগে অবশ্যই কয়েক দোকানে যাচাই করে নিবেন। এতে করে অর্থ অপচয় হবে না। আবার পরিবারের কারো যদি খাবার অপচয় অভ্যাস থাকে তাহলে সেগুলো রোধ করুন এতে করে মাস শেষে ভালো টাকা সঞ্চয় করা যাবে।

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে করণীয়

বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতিতে অনেকেই জীবন চালাতে হিমশিম খেয়ে যায়। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষই আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি এ ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। এর মাত্র একটি সহজ সমাধান হচ্ছে মাসের পরিকল্পনা কিংবা বাজে তৈরি করা। সেই সাথে অপ্রয়োজনীয় পণ্য বিলাসী আইটেম শখের কেনাকাটা ক্রেডিট কার্ড ঋণ অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে।

পাইকারি কেনাকাটা বা বিভিন্ন সুপার শপ হতে ডিসকাউন্টে খাদ্যদ্রব্য কিনলে কিছু অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। আবার বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস ব্যবহারে একটু হিসাব করে চালালেও বেশ খরচ বাঁচে।

তারপরেও পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস তো অবশ্যই কিন্তু হবে তাই যথাসম্ভব চেষ্টা করুন নিজের ছোট ছোট দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে বাড়তি অর্থ উপার্জন করার।

ধনী হওয়ার সহজ সূত্র

এতক্ষণ তো আমরা টাকা জমানোর উপায় সম্পর্কে জানলাম। এবার জানব ধনী হওয়ার সহজ সূত্র। এই ক্ষেত্রে আমি মাত্র ৫ টি সূত্র বলে দিব যার মাধ্যমে যে কেউই ভবিষ্যতে নিজের অর্থ এবং সম্পত্তি বৃদ্ধি করতে পারবে।

১. প্রথমত সঞ্চয় করুন।
২. সঞ্চয় করা অর্থ জমি ক্রয়, দোকান বা বিভিন্ন বিজনেসে ইনভেস্ট করুন।
৩. কোন ধরনের ঋণ গ্রহণ করবেন না
৪. নিজে যদি কোন দক্ষতা থাকে তাহলে সেটা কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করুন বা বাড়তি কাজ করুন।
৫. রাতারাতি ধনী হওয়ার চেষ্টা না করে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা করুন এবং ধারাবাহিতার কথা বজায় রাখুন।

টাকা জমানোর টিপস জানার পাশাপাশি ধনী হওয়ার সহজ সূত্রগুলো ব্যবহার করে আপনিও ভবিষ্যতে বেশ ভালো অর্থ সম্পদের মালিক হতে পারেন। তবে জীবনে যত টাকা উপার্জনই করেন না কেন যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি যথাযথভাবে সঞ্চয় এবং ইনভেস্ট করতে না পারবেন ততদিন পর্যন্ত কখনোই অর্থের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। আপনার জন্য শুভকামনা।

“টাকা জমানোর জাদুকরী কৌশল | ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবস্থাপনা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন