আমরা সবাই চাই সারাদিন কর্মক্ষম এবং সজাগ থাকতে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় না। তবে রাতের রুটিন হিসেবে কিছু নিয়ম মেনে চললে পরের সারাদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে সফল ব্যক্তিরা রাতে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করে যা তাদের পরের দিন কর্মক্ষম থাকতে সাহায্য করে।
তাছাড়া এই অভ্যাসগুলো যেমন সহজ তেমনি কার্যকরী। তাই আপনি যদি চান প্রতিটা সকাল হোক শান্ত ও সফলতায় তাই নিচের এই রুটিন আজ থেকে শুরু করুন।
Successful night routine bangla
• পরিকল্পনা
ঘুমানোর আগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্যয় করুন পরের দিনের প্রাধান্য ভিত্তিক কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করা। তারপরে সকালের খাবার প্রস্তুত রাখুন, কাপড় তুলে রাখুন এবং ক্যালেন্ডারও চেক করতে পারেন। এতে করে সকালবেলা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ কমে যাবে।
• ইলেকট্রনিক ডিভাইস
মোবাইল কিংবা ল্যাপটপের স্ক্রিনের আলো আমাদের হরমোনের কাজকে ব্যাহত করে এবং ঘুমের বিঘ্ন ঘটায়। তাই ভালো ঘুমের জন্য কমপক্ষে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা আগে এসব বন্ধ করে দিন। ঘুম না আসলে বই পড়তে পারেন কিংবা লেখালেখি করতে পারেন।
• পরিবারকে সময় দিন
ব্যস্ত দিনের শেষে প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো মানুষের চাপ কমা এবং সম্পর্কে ভালো রাখে। ভালো দিন এবং প্রডাক্টিভিটি সকালের ভিত্তি এটি।
• দিনের প্রতিফলন
আজকে সারাদিন কি অর্জন করেছেন তা নিয়ে কিছু শব্দ লিখে বলুন। এটি মন থেকে স্ট্রেচ কমাবে এবং ঘুমানোর সময় ইতিবাচক ভাবনা তৈরি করবে।
ঘুমানোর আগে কী করা উচিত
কিছুদিন আগে একটু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশই নানা কারণে ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। যার কারণে নানা রোগ দেখা দেয়, ডায়াবেটিসের হয়। চিকিৎসকদের মতে একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক কমপক্ষে সাত ঘন্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু বিছানায় গেলেই তো আর ঘুম আসে না। এর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন চলুন তা জেনে নেই।
• হালকা গরম পানিতে গোসল করতে পারেন
• মোবাইল না চালিয়ে বই পড়া ভালো অভ্যাস।
• প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত।
• ঘুমানোর আগে স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
• কক্ষটি যথাসম্ভব স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা কিছুটা ঠান্ডা রাখুন।
• ঘুমানোর আগে হালকা ব্যায়াম করুন বা মেডিটেশন করুন।
রাতের অভ্যাসে জীবনের পরিবর্তন | Productive night routine tips
সারাদিনের কর্মক্ষমতা নির্ভর করে রাতের ঘুমের উপর। যারা কিনা সুন্দরভাবে প্রতিনিয়ত এই রাতে ঘুমাতে পারে তাদের এই ছোট একটি অভ্যাসে পুরো জীবন পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। যেমন, যে ব্যক্তির রাতে ভালো ঘুম হয় না তিনি দিনের বেলাতেও কাজে ভালো মন দিতে পারেন না। দিন দিন তার পারফরম্যান্স খারাপ হতে থাকে এবং লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়ায়। অনেকেই তো এই বদ অভ্যাসের কারণে নিয়মিত চাকরি করতে পারেন না কিংবা ব্যবসা মনোযোগ দিতে পারেন না।
অন্যদিকে যারা সুস্থ এবং রুটিন মাপের জীবন যাপন করেন তাদের সফলতার আরো অনেক বেশি। আর এদের বেশিরভাগ অংশই রাতে ঘুমানোর ব্যাপারে খুব নিয়মাবলীদের নিয়মানুবর্তিতা পালন করেন। জীবন পরিবর্তন করতে চাইলে রাতে রাতের রুটিন বা ভাল ঘুমের জন্য রুটিন গুলো মেনে চলো।
ভালো ঘুমের জন্য রাতের প্রস্তুতি
ঘুমানোর উদ্দেশ্য শুধু বিশ্রাম নয় বরং এটি শরীর এবং মনের জন্য একটি মৌলিক চাহিদা। কিন্তু আধুনিক জীবনে মানুষের কাছে ঘুম হয়েছে একটি বিলাসিতা মাত্র। স্ট্রেস, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, অনিমিয়ত রুটিন সবগুলো মিলে আমাদের ঘুমের পরিবেশন নষ্ট হচ্ছে। তাই রাতে ভালো ঘুমের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে ঘুমানোর আগে কি করা উচিত তা জেনে নেওয়া খুবই জরুরী।
রাতে ভালো ঘুম করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অভ্যাস
• ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল, চা, কফি, ক্যাফেইন জাতীয় খাবারের এড়িয়ে চলুন। চা, কফি এর প্রভাব শরীরের ৬ থেকে ৭ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই চেষ্টা করবেন দুপুরের পর এগুলো এড়িয়ে চলা।
• বেডরুম সবসময় গোছালো এবং পরিষ্কার রাখুন। অতিরিক্ত আসবাবপত্র বেডরুমে না রাখাই ভালো।
• নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে যান এবং ঘুমানোর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রাখুন।
• রাতের বেলায় ভারী খাবার বিশেষ করে ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত এবং মসলাযুক্ত খাবার গুলি এড়িয়ে চলুন। যদি ক্ষুধা লাগে তাহলে সবজি, সালাদ, কলা, গরম দুধ এ জাতীয় খাবার খেতে পারেন।
• চেষ্টা করবেন দিনের বেলা কিছু সময় প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকার। এতে করে শরীর এনার্জি পায় এবং মুড ভালো থাকে।
• এবং সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না। অতিরিক্ত ঘুম রাতের ঘুমকে ডিস্টার্ব করতে পারে।
যারা ভালো মানের ঘুম অনুভব করেন তাদের জীবনযাত্রা অনেক ভালো থাকে। ঘুমের সময়, মান, ধারাবাহিকতা এবং পারফরম্যান্স কাজের মান বৃদ্ধি করায়। তাই ভালো ঘুমের জন্য রাতের রুটিন এবং ঘুমানোর আগে কি করা উচিত সেই অভ্যাস মেনে চলুন, জীবন পরিবর্তন হয়ে যাবে।