ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার উপায়

অর্থ উপার্জন, পরিবারের জন্য আমরা কত কিছুই তো করি শুধু ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার সময় হয় না। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন, ঘর সংসারের কাজ করা এবং সামাজিক সম্পর্ক যাপন করে যাওয়ার ভিড়ে মানুষ আসলে নিজের জন্যই সময় পায় না।

আপাতদৃষ্টিতে এই ব্যস্ত জীবন ইতিবাচক মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে অতি প্রোডাক্টিভ জীবনযাত্রার ক্ষতিকর দিক। কারণ নিজের মন ও শরীরের যত্ন না নিলে একদিন এই ফিটফাট সুন্দর চেহারাটাও খসে পড়বে এবং শরীরও আর নড়তে চাইবে না। তখন বয়সের ভারে তলিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তাই সময় থাকতেই আমাদের উচিত নিজের যত্ন নেওয়া। কিন্তু কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে এটি কিভাবে সম্ভব করবেন। চলুন আমি আপনাকে জানাচ্ছি।

ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার উপায় Self care routine busy life

সেলফ কেয়ার বা নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ব্যাক্তিভেদে আলাদা আলাদা হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে এক একজনের কর্মজীবন, লাইফস্টাইল, পছন্দ, চাহিদা ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে সবার জন্য আলাদা আলাদা চাহিদা থাকলেও একটি প্রাথমিক নীতি দাঁড় করানো যায় যেটি সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য। আমি সেই নীতি তিনি আজকে আলোচনা করব। তাই নিজের জন্য হলেও পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

মানসিক শান্তির জন্য দৈনিক অভ্যাস

টিভি, মোবাইল, কম্পিউটারে বন্দি না হয়ে থেকে সৃজনশীল কাজের দিকে নিজের মনোযোগ বৃদ্ধি করুন। এতে করে মনোযোগ ও কৌতূহল চর্চা হবে এবং আপনার মানসিক অবস্থা ও আগের থেকে ভালো হবে।

আবেগীয় অনুভূতি

পৃথিবীতে আবেগ ছাড়া মানুষ হয় না। তবে আবেগের অবদমন মানুষকে দিন দিন অসুস্থ করে তুলতে পারে। হাসি, আনন্দ, ভালবাসা ইত্যাদি সব ইতিবাচক আবেগের চর্চা হতে পারে নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার অন্যতম একটি উপায়। সেই সাথে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলো আবেগ দিয়ে চিন্তা না করে বিবেক এবং প্র্যাকটিক্যাল হওয়া উচিত। কারণ সব সময় আবেগের সিদ্ধান্ত সঠিক হয় না।

শারীরিক সুস্থতা

কথায় আছে সুস্থ দেহের সুন্দর মন। ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার মধ্য এটি সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শরীর যত সুস্থ থাকবে আপনি সব ধরনের কাজেই তত বেশি এগিয়ে যাবেন। তাই দিনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট সময় হলেও শারীরিক ব্যায়াম কিংবা এক্সারসাইজে সময় দিন। চাইলে জিমে ভর্তি হতে পারেন।

পরিবেশগত সুস্থতা

যে ঘরে থাকেন সেটা যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না হয় তাহলে শারীরিক এবং মানসিক উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়মিত নিজের ঘর কাজের জায়গা বাগান ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ করুন।

বিনোদনমূলক সময়

একই ধরনের রুটিন প্রতিদিন আমাদের পালন করতে ভালো লাগেনা। তাই নিজের জন্য কিছুটা হলেও বিনোদনের সময় বরাদ্দ রাখতে হয়। এ সময়ে সিনেমা দেখা, খেলাধুলা করা কিংবা পছন্দের কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হতে পারে মানসিক প্রশান্তির উপায়।

খাদ্যাভ্যাস

যারা কিনা সারাদিন বাইরে কাজ করেন তাদের অনেকেই সাধারণত বাইরের খাবার খেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ভাজি পোড়া, চা, কফি কিংবা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। সেই সাথে কোমল পানীয় খাওয়া উচিত নয়। সবুজ শাকসবজি, মাছ, প্রোটিন, দুধ এই আইটেমগুলো নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা আপনার ভালোর জন্যই প্রয়োজন।

কাজের চাপে নিজেকে সময় দেওয়ার কৌশল

সারাদিন কাজের চাপে নিজেকে সময় দেওয়ার কৌশল হিসেবে অবশ্যই অগ্রাধিকার মাফিক একটি রুটিন করে চলা প্রয়োজন। সেই সাথে না বলতে শেখাটাও খুবই দরকারী। ব্যস্ত জীবনে নিজের যত নেওয়ার উপায় হিসেবেও এটি বেশ প্রয়োজনীয়। নিচে আরো কিছু টিপস দেয়া হলো যার মাধ্যমে আপনি নিজের জন্য কিছু সময় বের করতে পারেন।

• কাজের যতই চাপ থাকুক না কেন তার ফাঁকে ফাঁকে নিজের জন্য দুই থেকে পাঁচ মিনিট করে সময় বের করুন।

• মাল্টি টাস্কিং বা একই সাথে অনেক কাজ না করে একটি একটি করে কাজ শেষ করুন।

• প্রতিদিন রাতে পরের দিনের কাজের একটি রুটিন তৈরি করুন এতে করে কিছুটা সময় মিলবে।

• অপ্রয়োজনীয় কাজে মানুষকে না বলতে শিখুন।

• গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে শেষ করুন যাতে করে দিনশেষে কোন ধরনের চাপ অনুভব না হয় এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করতে পারেন।

Stress free lifestyle tips bangla

মানুষের চাপমুক্ত জীবনযাপনের জন্য সবার আগে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম। নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই দুটি খুবই কঠিন ভাবে প্রযোজ্য।

মানুষের চাপ মুক্ত জীবন যাপনের ক্ষেত্রে কার্যকর কিছু পদক্ষেপ

• ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ৭ থেকে ৯ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম অবশ্যই নিষেধ করুন। ঘুমানোর আগে ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করে দেন।

• নিয়মিত ২০ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলে মস্তিষ্ক গুডফিল করে।

• প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করুন এতে করে অহেতুক তাড়াহুড়া এবং দুশ্চিন্তা কমে যায়।

• খাবারের তালিকায় নিয়মিত সবুজ শাকসবজির রাখুন।

• মাঝে মাঝে প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করুন এতে করে মন ভালো থাকে।

• শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের পছন্দের কাজ কিংবা বিশ্রামের জন্য সময় বের করুন

নিজের যত্ন না নিলে কী হয়

আমাদের শরীর এবং মস্তিষ্ক যত দিন ভালোভাবে সাপোর্টে দিন এর গুরুত্ব আমরা হয়তোবা বুঝতে পারি না। কিন্তু যখন থেকে এটি খারাপ হওয়া শুরু করে ততদিনে হয়তো দেরি হয়ে যায়। নিজের যত্ন না নিলে আস্তে আস্তে আমাদের মানসিক বিষন্নতা শুরু হয় মেজাজ খিটখিটে হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এমনকি একটু সময় নিজের কর্ম দক্ষতা ও কমে যায় যার ফলে আত্মবিশ্বাস্য আস্তে আস্তে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। আর এর প্রভাব সামগ্রিকভাবে কাজের উপর এমনকি পরিবারের উপরও করতে পারে। কারণ মানসিক এবং শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকলে পরিবার বা কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজই অন্যদের উপর কোন না কোন ভাবে নির্ভরশীল বা সম্পর্কিত।

তাই মনে রাখবেন ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়া আসলে বিলাসিতা নয় বরং সুস্থ এবং সুন্দর জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য।

“ব্যস্ত জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার উপায়”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন