মিনিমালিস্ট লাইফস্টাইল মানে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় এবং অর্থপূর্ণ জিনিস দিয়ে সচেতন ভাবে জীবন যাপন করা। সেই সাথে অতিরিক্ত আসবাবপত্র পণ্য কিংবা অগোছালো অভ্যাস বর্জন করা। সংক্ষেপে বলা যায়, “কমই ভালো দর্শনে বিশ্বাস করা” যা কিনা কাউকে মানসিক শান্তি প্রদান করে এবং আর্থিক সাশ্রয় করার পাশাপাশি সময় বাঁচায়। এই ধরনের লাইফস্টাইল আমাদেরকে নিজের কাজ কিংবা ক্যারিয়ারের ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করে।
মিনিমালিস্ট লাইফস্টাইল কেন প্রয়োজন?
• অতিরিক্ত জিনিসপত্র সরিয়ে ফেললে ঘরের পরিবেশ অনেক বেশি পরিষ্কার থাকে যা কিনা উদ্বেগ এবং চাপ কমায়।
• কম কেনাকাটা করার ফলে অহেতুক খরচ কমে এবং সেই অর্থ অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগানো যায়।
• যেহেতু ঘরের জিনিসপত্র কম থাকে তাই রক্ষণাবেক্ষণও কম করতে হয় ফলে সময় বাঁচে।
• বস্তুগত জিনিসের চাইতে আমাদের জীবনে অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নয়নের উপরে বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন তাই আর এটি করতে সাহায্য করে মিনিমালিস্ট লাইফস্টাইল।
মিনিমাল লাইফস্টাইল শুরু করার সহজ উপায়
মিনিমাল লাইফস্টাইলের জন্য সবার আগে ৯০/৯০ নিয়ম ব্যবহার করতে হবে। এর মানে হচ্ছে যে জিনিসটি আপনি বিগত ৯০ দিন ধরে ব্যবহার করেননি এবং আগামী ৯০ দিনও ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই সেটি দান করে দিন বা ফেলে দিন।
প্রতিদিন ঘর থেকে ৫ থেকে ১০টি করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস বের করে ফেলুন। সেটি একটি কাগজের টুকরা হলেও।
যেহেতু বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগ তাই মোবাইল হতেও অপ্রয়োজনীয় এবং পুরনো ছবি, ফাইল, ইমেইল ডিলিট করে ডিভাইসটি আরো বেশি ক্লিন করুন।
অতীতের পুরনো জিনিস না ঘেঁটে বর্তমানে মানুষের সাথে সময় কাটানো কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া। একই সাথে যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার অভ্যাস করুন।
উপরের এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে আপনি মিনিমালিস্ট লাইফস্টাইল অর্জন করতে পারবেন। মূলত অল্পতে সন্তুষ্ট থাকার অভ্যাসে বস্তুবাদী অভ্যাস বদলানোর সঠিক পদ্ধতি।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমিয়ে জীবন বদল
অনেকেরই অভ্যাস আছে অতিরিক্ত জিনিসপত্র দিয়ে ঘর ভরে ফেলা। এতে করে একদিকে যেমন ঘরের জায়গা বা পরিবেশ নষ্ট হয় অপরদিকে এই জিনিসগুলো মেইনটেইন করতে বাড়তি পরিশ্রম এবং সময় ব্যয় হয়।
তাই ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাইরে বের করে দিয়ে ট্রেস কমাতে পারেন। অনেকেরই এমন কিছু কাপড় আছে যেগুলো হয়তো বা ভবিষ্যতে আর কখনো পড়া হবে না। অথচ এই কাপড় মাসের পর মাস ধরে আলমারিতে জায়গা দখল করে আছে। সবার আগে এই পোশাকগুলো আলাদা করুন এবং কাউকে দিয়ে দিন যার এটি প্রয়োজন।
ঠিক একইভাবে বিভিন্ন ধরনের বই কাগজপত্র, রান্নাঘরের জিনিসপত্র, বিউটি প্রোডাক্ট, মেডিসিন ইত্যাদি আইটেম একে একে যাচাই করুন। যেগুলো বিগত ৯০ দিন ব্যবহার করেননি এবং আগামী ৯০ দিনও ব্যবহার করা হবে না তা ফেলে দিন আর কাউকে দান করার উপযোগী হলে দান করে দিন। এর ফলে ঘরের বাড়তি জায়গা খালি হবে এবং ঘরও অনেকখানি পরিষ্কার হবে।
অনেক গৃহিনীর ধারণা রান্নাঘরের অনেক বাসন ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এটিও সঠিক ধারণা নয়। কারণ অতিরিক্ত বাসন কখনোই আপনাকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয় না। এর কারণ হচ্ছে একদিনে একজন পরিবারের নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবারই প্রয়োজন হয়। তাই এগুলো হতেও কিছু জিনিসপত্র কমাতে পারেন
কম খরচে সুন্দর জীবনযাপন
মিনিমাল লাইফস্টাইল আমাদের শুধুমাত্র জিনিসপত্র কমিয়ে ফেলার অভ্যাসে গড়ে তুলে না বরং কম খরচে সুন্দর জীবন যাপন করার পদ্ধতিও শিখিয়ে দেয়। জীবনের অনেকটা সময় এবং উপার্জনের বেশিরভাগ অংশই আমরা নানা ধরনের জিনিসপত্র কেনার কাজে ব্যয় করি। এতে করে সব সময় চিন্তায় থাকতে হয় যে, কোন টাকা দিয়ে কোন জিনিসটি কিনব কেউ কেউ তো আবার সামর্থের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত লোন নিয়ে আসবাব কেনাতে ব্যস্ত থাকেন। যেটা একদমই উচিত নয়। তাই জিনিসপত্রকে রিইউস বা পুনরায় ব্যবহার করার অভ্যাস করুন এবং মিনিমাম লাইফ স্টাইলের মাধ্যমে কম খরচে জীবন যাপন করুন।
Minimalism জীবন দর্শন বাংলা
আধুনিক যুগে মিনিমাল জীবন দর্শন হলো সারা জাগানো একটি পদ্ধতি। যদি কিন কেউ তার জীবনের সময় বাঁচাতে চায়, টাকা বাঁচাতে চায় কিংবা জীবনকে আরো বেশি সহজ করতে যায় তাহলে অবশ্যই মিনিমালিজম জীবন দর্শন তার জন্য প্রয়োজনীয়। এই দর্শনে বিশ্বাসীরা তখনই একটা জিনিস ক্রয় করে যখন মনে হয় সেটি তার প্রয়োজন। মিনিমালিস্ট লাইফস্টাইল অনুসরণ করার জন্য কঠিন কোন নিয়ম মানতে হয় না। যদি একবার আপনি আপনার কারণ খুঁজে পান তাহলে সেখান থেকে এ যাত্রা শুরু করতে পারবেন।
কম জিনিসে সুখী থাকার মানসিকতা
মিনিমাই লাইফস্টাইল অর্জন করার জন্য আমি বেশ কয়েকটি টিপস আপনাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। তারমানে আমি যে সবকিছু সম্পর্কে বলেছি বিষয়টি এমন নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যা বারবার রিপিট করতে হবে। বেশি বেশি ডোনেট করুন, কম কম কিনুন, ভালো কোয়ালিটির জিনিস কিনুন এবং গোছানো থাকুন। যখন নিজের জীবন থেকেই অতিরিক্ত জিনিস রিমুভ করে দিবেন তখন নিজে নিজে উপলব্ধি করতে পারবেন যে সেই জিনিসগুলি কখনোই আপনার জীবনের গুরুত্ব রাখেনি। সবার জন্য শুভকামনা।
“মিনিমালিস্ট লাইফস্টাইল মানে কী এবং কেন দরকার”-এ 1-টি মন্তব্য