নতুনদের জন্য কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করব সেটি বেশ কনফিউশন তৈরি হয়। এক্ষেত্র কোন ধরনের প্রফেশনাল জ্ঞান কিংবা কোডিং ছাড়াই সুন্দর একটি সাইট তৈরি করার জন্য সবচাইতে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। অন্যদিকে কোডিং বা কাস্টম ডেভেলপমেন্ট শেখা যেমন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা, তেমনিভাবে সুন্দর একটি সাইট তৈরি করাও বেশ জটিল।
বিস্তারিত এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে শুধুমাত্র ড্রাগ এন্ড ড্রপ করেই সুন্দর ওয়েব পেজ তৈরি করা যায়। সেই সাথে রয়েছে হাজার হাজার থিম এবং প্লাগিন। অল্প সময়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সেটিতে ডোমেইন এবং হোস্টিংযুক্ত করাও খুব সহজ। অধিকাংশ থিম এবং প্লাগিন খুবই সাশ্রয়ী যা ব্লগার কিংবা ছোট বিজনেসের জন্য আদর্শ।
অপরদিকে যদি সাইটের ডিজাইন সম্পূর্ণ ফিচার নির্ভর হয় তবেই কাস্টম কোড ব্যবহার করা উচিত। এক্ষেত্রে অবশ্যই নিজেকে বিভিন্ন ধরনের কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে অথবা ভালো কোন প্রোগ্রামারকে হায়ার করতে হবে।
এইচটিএমএল শেখার সহজ উপায়
যাবে কিনা ভবিষ্যতে একজন দক্ষ প্রোগ্রামার হতে চান তাদের জন্য html শেখে অত্যন্ত জরুরী। যদিও ইউটিউবে অনেক ভিডিও রয়েছে যেগুলো একদম ফ্রি এবং html শিখার জন্য এ টু জেড গাইডলাইন দেওয়া রয়েছে তবুও এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য এবং প্রচেষ্টা।
যেকোনো একজন ব্যক্তি কিংবা মেন্টরের টিউটোরিয়াল গুলো দেখে নিজে প্র্যাকটিস করা শুরু করুন। তবে শুরুতে এইচটিএমএলের মৌলিক কাঠামোর ট্যাগ এবং এলিমেন্ট গুলো বুঝে নিজে নিজে প্র্যাকটিস শুরু করুন।
এটি শেখার জন্য ভালো এবং সহজ ফ্রী প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ,w3School,, Code Academy.
ওয়ার্ডপ্রেস বাংলা টিউটোরিয়াল
কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করব সেটা সম্পর্কে তো আমরা মোটামুটি আইডিয়া পেয়েছি। এবার চলুন ওয়ার্ডপ্রেস বাংলা টিউটোরিয়াল কিংবা অর্থ ব্যবহার করে কোন কোন ধাপ অতিক্রম করতে হয় একটি সাইট তৈরি করার জন্য তা জেনে নেই।
• প্রথমে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনুন। এখানে ডোমেইন হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের নাম এবং হোস্টিং হচ্ছে আপনার স্টোরেজ।
• হোস্টিং এবং ডোমেইন ওয়ার্ডপ্রেস এ ইন্সটল করুন।
• ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড হল সেটি নিয়ন্ত্রণ করার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এখান থেকেই থিম সেটআপ সহ সকল ধরনের কাস্টমাইজ এবং পোস্ট করতে পারবেন।
• প্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন ইন্সটল করা যায়। অনেক প্লাগিন ফ্রি হলেও কিছু কিছু প্লাগিন রয়েছে যেগুলো পেইড অর্থাৎ টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কিনতে হয়।
ফেসবুক কিংবা ইউটিউব চালানোর মতোই ওয়ার্ডপ্রস সবকিছু নিজে নিজেই করা যায়। যখন যেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন সেই সম্পর্কে ইন্টারনেটে একটু রিসার্চ করে নিন যাতে করে কাজের মান খুবই প্রফেশনাল হবে।
ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির খরচ
এখন আমরা জানবো কিভাবে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করব এবং এর খরচ সম্পর্কে। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সাধারণত একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি ছোট বিজনেসের জন্য রেডিমেড ই-কমার্স সাইড তৈরি করতে ৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। আর যদি ওয়ার্ডপ্রেসের সকল কাজগুলো নিজে সম্পন্ন করতে পারেন তাহলে এই খরচের পরিমাণ আরো কমে যাবে।
খরচ গুলোর মধ্যে রয়েছে ডোমেইন হোস্টিংয়ের বিল, থিম খরচ, পেমেন্ট সেটআপ, রক্ষণাবেক্ষণ, এসইও ইত্যাদি। তবে ওয়েবসাইট মেইনটেইন করার জন্য প্রতি মাসে এবং প্রতিবছর আলাদা কিছু খরচ করতে হবে।
ওয়েব ডিজাইন শেখার গাইডলাইন
ফ্রিল্যান্সিং জগতের অন্যতম জনপ্রিয় পেশা হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন। এর মাধ্যমে মূলত একটি ওয়েবসাইট কেমন হবে সেটির ডিজাইন করা হয়। অর্থাৎ ব্যবহারকারী আপনার সাইটটিকে কিভাবে দেখবে কিংবা কিভাবে প্রেজেন্ট করবেন তা নির্ভর করে একজন ওয়েব ডিজাইন এর উপর। আমরা ইন্টারনেট বাজারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি। একটি ওয়েবসাইটের আউটলুক, ফন্ট কালার সাইজ ইমেজ, মেনুবার টুলবার সবকিছু আলাদাভাবে ডিজাইন করতে হয়।
প্রাথমিকভাবে ওয়েবসাইট ডিজাইন শিখতে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো এইচটিএমএল ল্যাঙ্গুয়েজ ভাষা জানা। এটা কে ওয়েব ডিজাইনের মূল ভিত্তি বলতে পারেন এবং এইচটিএমএল কিভাবে শিখবেন সে সম্পর্কে উপরে আমি ইতিমধ্য আলোচনা করেছি। যদি আপনার পূর্ণ মনোযোগ থাকেন এবং নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যান তাহলে দুই মাস থেকে ছয় মাসের মধ্যে আপনি ভালোভাবে ওয়েব ডিজাইন শিখতে পারবেন।
ওয়েব ডিজাইনের চাহিদা কেমন:
ফ্রিল্যান্সিং জগতে যত জনপ্রিয় এবং চাহিদার কাজ রয়েছে তার মধ্যে এটি প্রথম দিকে। বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা কিনা তাদের রেট ঠিক করে ঘন্টার ভিত্তিতে কিংবা মাসিক ভিত্তি দেয়। যেহেতু দিন দিন ওয়েবসাইটের চাহিদার বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই সে বিবেচনায় ভবিষ্যতেও এটি সর্বোচ্চ চাহিদা থাকবেন।
কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করব সে সম্পর্কে আমি বেশ কয়েকটি ধাপ আলোচনা করেছি। একটা কথা মনে রাখবেন যে মার্কেটের সবসময়ই কাজের চাহিদা থাকে। আপনাকে কোন একটি কাজ ভালোভাবে শিখে সেটির ক্লায়েন্ট জোগাড় করতে হবে। সেই সাথে দক্ষ হওয়া জরুরী। কারণ এ সকল টেকনিক্যাল সেক্টরে অনেক কাজের চাহিদা থাকলেও দক্ষ লোক পাওয়া দেশ মুশকিল।
“কোডিং নাকি ওয়ার্ডপ্রেস? নতুনদের জন্য ওয়েবসাইট তৈরির সঠিক পথ”-এ 1-টি মন্তব্য