বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের সকল কার্ডের কাজ এবং তালিকা আজকে আমরা জানব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয় বেশ আগ্রহ এবং আলোচনা। পরবর্তীতে নির্বাচনে নিরুঙ্কশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করার পর তিনি তার কথা রাখেন এবং ক্ষমতা গ্রহণের পর খুব দ্রুত চালু করেন ফ্যামিলি কার্ড। পরবর্তীতে জ্বালানি সংকটের কারণে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে যেটা দিয়ে একজন চালক মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে পারবে।
ইতিমধ্যে কৃষক কার্ডও চালু করা হয়েছে। অনেকের হয়তোবা এসকল কার্ড সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই তাই আজকের সরকারী সকল কার্ডের কাজ এবং সুবিধা নিয়ে আলোচনা করব।
ফ্যামিলি কার্ডের কাজ এবং সুবিধা
সর্বপ্রথম উদ্বোধন করা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একজন প্রান্তিক অথবা নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি সরকার প্রধান জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের প্রায় দরিদ্র সব গৃহিণীরা পর্যায়ক্রমে এই কার্ডের আওতাভুক্ত হবেন। মূলত অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এটি একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ ভিত্তিক কার্ড। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক সরাসরি নগদ আর্থিক সুবিধা ছাড়াও প্রতিমাসে নির্দিষ্ট টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য গ্রহণ করতে পারবে। এমনকি ভবিষ্যতে এই কার্ডের সুযোগ সুবিধা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় রাখা হবে না।
তবে যে সকল মানুষ ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিজীবী অথবা নিয়মিত পেনশন ভোগ করছেন তারা এর আওতাভুক্ত হবেন না। এমনকি আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও এই কার্ড সুবিধা পাবেন না। আর্থিক সুবিধাভোগী নারীদের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষক কার্ডের সুবিধা ও কাজ
পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডও প্রদান করছে সরকার। যে সকল প্রান্তিক অথবা দরিদ্র কৃষক এই কার্ড পাবেন তারা কৃষি উপকরণ সুবিধা সহ সহজশর্তে ঋণ এবং আরও বেশ কয়েকটি সুবিধা পাবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে এই কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। পিওএস মেশিন ব্যবহার করে একজন কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে বীজ খাদ্য সহ বিভিন্ন উপকরণ কিনতে পারবেন।
তাছাড়া শস্য, গবাদি পশু মৎস্য সম্পদের উপর বীমা সুবিধাও রয়েছে। অর্থাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বীমা সুবিধা পাবেন।
ই হেলথ কার্ড বা স্বাস্থ্যসেবা কার্ড
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি আওতায় ই হেলথ কার্ড বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যালয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যদিও প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের খুলনা, নোয়াখালী সহ কয়েকটি জেলায় এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে একজন সুবিধাভোগী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
যেহেতু এই কার্ডটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয় তাই রোগের নাম, বয়স, চিকিৎসা ইতিহাস, ওষুধের বিবরণ রিপোর্টের বিবরণ ইত্যাদি ডিজিটাল রিপোর্ট আকারে সংরক্ষিত থাকবে। তাই বাড়তি কোন ঝামেলা নেই এবং জরুরী পরিস্থিতিতে খুবই দ্রুত ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। আবার প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি আলাদা এবং আইডি নম্বর থাকবে যা কিনা যে কোন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে গিয়ে দ্রুত সেই আইডির মাধ্যমে তথ্য বের করতে সহায়তা করবে।
প্রবাসী কার্ডের কাজ ও এর সুবিধা
প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যাংকিং সুবিধার সহজ করতে মূলত এই কার্ডে উদ্দেশ্য। একজন প্রবাসী কি কি কাজের দক্ষ এবং কি অভিজ্ঞতা রয়েছে তার তথ্যগুলো এই কার্ডের যুক্ত থাকবে।
এমনকি প্রবাসী কার্ডের সরাসরি ব্যাংকের পেমেন্ট গ্রেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রবাসীরা দ্রুত এবং সহজে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবে। সরকারের সকল কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে আলোচনার নিশ্চয়ই আপনার ভালো লাগছে। কারণ এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক সুবিধার সম্পর্কে সচেতন হতে পারছি।
তাছাড়া যারা প্রবাসী কার্ড এর সদস্য হবেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্যপদ লাভ করবেন। এতে করে দুর্যোগকালীন অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। আবার আমরা প্রায়ই খবর শুনে থাকি বিদেশের মাটিতে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের পরিবারকে বিশেষ ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে।
প্রবাসী কার্ডের সুদের মধ্যে আরও রয়েছে ঋণ সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন সুবিধা এবং ঝামেলা মুক্ত বিমানবন্দরের সেবা।
এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের কার্ড সুবিধা ও কাজ
সরকারের সকল কার্ডের কাজ ও সুবিধার এ পর্যায়ে আমরা জানবো এলপিজি কার্ডের কাজ। আমরা জানি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বেশ জ্বালানি সংকট চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা সেই অসুবিধাটি এই পরিলক্ষিত করতে পেরেছি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে এবং গৃহিনীদের রান্নার কষ্ট লাঘব করতে এবার চালু হচ্ছে এলপিজি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত নারী সদস্যরা বিশেষ ভর্তুকিতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে পারবেন। কারণ নিম্নবিত্ত এবং দরিদ্র নারীদের ক্ষেত্রে চড়া দামে এই গ্যাস সুবিধা গ্রহণ করা বেশ কঠিন।
ফ্রিল্যান্সার কার্ডের কাজ অসুবিধা
বাংলাদেশে অনেক দক্ষ ফ্রিলান্সার রয়েছে যারা দেশে-বিদেশের বিভিন্ন বাইরের কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এবং আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করছে। কিন্তু সরকারি ভাবে এরা বিশ্বাস কোন সুবিধা পায় না। তাই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরকে প্রায় ২ লাখ ফ্রিলান্সারকে কার্ড দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের লোন সম্পর্কে জানতে এখানে প্রবেশ করুন
এই কার্ডের মাধ্যমে আইটি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা ফ্রিল্যান্সারের কে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ বলে ঘোষণা দেওয়া আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সহজ করা সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করা হবে। তাছাড়া যখন একজন ফ্রিল্যান্সার এই কার্ডের আদায় করতে হবে তখন বিদেশে ক্লায়েন্টদের কাছেও বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে।
সরকারি সকল কার্ডের কাজ ও অন্যান্য তথ্য
ইতিমধ্যে আমরা বর্তমান সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় সকল কার্ডের সুবিধা এবং কাজ সম্পর্কে কিছুটা জানতে পেরেছি। বর্তমানে অনেক কাজে রয়েছে যেগুলো করার জন্য প্রচুর কাগজপত্র ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়। কিন্তু একটি ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে এই ধরনের ব্যবস্থাপনা অনেকটাই সহজ হয় যার কারণে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। একটু ভেবে দেখুন যদি আপনার একটি কার্ডে সকল ধরনের হেলথ ইনফরমেশন থাকে তাহলে গাদা গাদা ফাইল বা রিপোর্টের কাগজ বয়ে বাড়াতে হবে না।
তাছাড়া এটি ডিজিটাল ফরমেটের সংরক্ষণ করতে থাকায় হারিয়ে যাওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই। তাই সকল ধরনের কার্ডের সুবিধা বাংলাদেশের জনগণের জন্য আরো অনেক বেশি উন্নতি বয়ে আনবে বলে আমরা আশা করি। সরকারের সকল কার্ডের সুবিধা জানার পর আপনি যদি কোন কার্ড গ্রহণ করতে চান তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সাথে যোগাযোগ করুন।
