লেখাপড়ার প্রথম ধাপ অর্থাৎ প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হতে কি কি কাগজপত্র লাগে সেটি সম্পর্কে হয়তো আমাদের কিছুটা ধারণা রয়েছে। তবে এবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ায় বড় একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই আপনার যদি নতুন ভর্তি যোগ্য কোন শিক্ষার্থী থাকে তাহলে পুরো লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
এর আগে নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি হতে জন্ম নিবন্ধন, ছবি পিতা-মাতার কাগজপত্র ইত্যাদি প্রয়োজন হলেও বর্তমানে এখন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই নতুন নিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ইতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি অভিন্ন ভর্তি ফর্ম প্রণয়ন করেছেন।
প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির নতুন নিয়ম
নতুন এই ভর্তি ফরম এ বেশ কয়েকটি অংশ রয়েছে যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে উল্লেখ করা হলো।
শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য
প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হতে যা যা কাগজপত্র পূর্বে লেগেছে সেখানে কখনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বর্তমানে এই অংশে শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ, উচ্চতা, ওজনসহ দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণ শক্তি কোন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা ইত্যাদি তথ্য গুলি উল্লেখ করতে হবে।
টিকাদান সংক্রান্ত ও তথ্য
আমরা জানি একটি শিশু ও জন্মগ্রহণ করার পর ধাপে ধাপে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা বা প্রতিষেধক দিতে হয়। প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীর যক্ষা, হাম, রুবেলা, পোলিও, টিটেনাস সহ উল্লেখযোগ্য প্রতিষেধক গুলো দেয়া হয়েছে কিনা তা উল্লেখ করতে হবে ভর্তি ফরমে। এমন টিকা গ্রহণের তারিখ ও উল্লেখ করতে হবে।
উপরিক্ত তথ্য ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নতুন অনুযায়ী শিক্ষার্থীর অন্যান্য কোন দুরারোগ্য অসুখ যেমন মৃগী, এলার্জি, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি আছে কিনা তা অভিভাবককে আগে থেকেই বিদ্যালয় জানাতে হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য
উপরের স্বাস্থ্যগত তথ্যগুলো নতুন সংযোজন করা হলেও শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম নিবন্ধন, ধর্ম, জাতীয়তা এবং পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র পেশা মোবাইল নম্বর ইত্যাদি প্রদান পূর্বের মতোই রয়েছে। তাছাড়া পিতা মাতার এনআইডি কবে ছবির সাথে পাসপোর্ট সাইজের ছবিও প্রয়োজন হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরেই দেশের প্রায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় এই অভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অনন্য তথ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে এবার যেহেতু ইতিমধ্য বছরের বেশ কয়েকটি মাস চলে গিয়েছে তাই পূর্ণাঙ্গভাবে এই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে অবশ্যই তার স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলোর উপর সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে বিভিন্ন রোগের টিকা বা প্রতিষেধক দেওয়াও খুবই প্রয়োজন যাতে করে শিক্ষার্থীর কোন ধরনের বড় অসুস্থতার সম্মুখীন না হয়। প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির নিয়ম বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে এই অংশটির সংযুক্ত করা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সেই লক্ষ্য অর্জনের সহায়ক হবে।

1 Comment