বাজেট স্বল্পতার কারণেই অনেক সময় আমরা বিকল্প চিন্তা ভাবনা করি। ঢাকার কোথায় পুরাতন ফার্নিচার পাওয়া যায় সেটা জানার মাধ্যমে আপনিও ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবটি সহজেই ক্রয় করতে পারেন। বর্তমানে এই ধরনের ক্রয় বিক্রয়ের জনপ্রিয়তাও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হচ্ছে অল্প দাম ঘরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিসটি কেনা সহজ হয়েছে।
হয়তোবা কেউ নতুন বাসা নিয়েছেন কিংবা অফিস সাজাবেন অথবা অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য ফার্নিচার খোঁজেন। যেহেতু পুরাতন ফার্নিচার গুলো অনেকটাই কম দামে ক্রয় করা যায় তাই ডেকোরেশনের জন্য এই পথেই অনেকেই হাঁটেন।
ঢাকার কোথায় পুরাতন ফার্নিচার পাওয়া যায়
পুরাতন ফার্নিচার ক্রয় বিক্রয়ের সবচাইতে পরিচিত জায়গা হল নিউ ইস্কাটন ও পুরান ঢাকার বংশাল এলাকা। এখানে আপনি কাঠের চেয়ার, টেবিল, আলমারি, সোফা থেকে শুরু করে অফিস ফার্নিচার সহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই পেয়ে যাবেন। এখানকার বিক্রেতারা সাধারণত বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিস কিংবা হোটেল থেকে অনেক ফার্নিচার একসাথে কিনে বিক্রি করে বিধায় অনেক কম দামে পাওয়া যায়।
ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডও অনেক জনপ্রিয় পুরাতন ফার্নিচার কেনাবেচার জন্য। তবে পুরাতন বলেই যায় সেগুলো দেখতেও পুরাতন বিষয়টি এরকম নয়। অনেক দামী দামী আসবাব পুনরায় পালিশ ডিজাইন করে একদম নতুনের মত করে তোলা হয়। তাভ কেনার সময় কখনই মনে হবে না আপনি কোন পুরাতন জিনিস কিনছেন।
সাধারণ কাজ ছাড়াও এ সকল দোকানে সেগুন কাঠ, গামারি কিংবা মেহগনি কাঠের তৈরি আসবাবপত্র পাওয়া যায়।
মিরপুর, কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকাতেও বেশ কয়েকটি পুরাতন ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। এখানকার দাম গুলোও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
অনলাইনে পুরাতন ফার্নিচার কেনাবেচা
কেউ কেউ আবার বাসার ব্যবহৃত জিনিসটি বিক্রি করে দেন। হয়তোবা জরুরী টাকার দরকারে অথবা জিনিসটির আর প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম যেমন bikroy.com অথবা facebook মার্কেটপ্লেস হতেও আপনি এই ধরনের পণ্য ক্রয় করতে পারেন। তবে অনলাইনে ক্রয় বিক্রয় ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।
পুরাতন ফার্নিচার করার আগে যা জানা জরুরী
যেহেতু একটি ব্যবহৃত বা পুরাতন জিনিস কিনছেন তাই এটা কেনার আগে কিছুটা তো সচেতনতা হওয়া উচিত। চলুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।
• আসবো আপনি কতটা শক্ত কিংবা মজবুত তা যাচাই করে নিতে হবে। বিশেষ করে জোড়া বা জয়েন্ট গুলো নড়বড়ে কিনা তা দেখে নিন।
• অনেক সময় পুরাতন ফার্নিচারে পোকামাকড়ের আক্রমণ থাকতে পারে। এই ধরনের ফার্নিচার ক্রয় না করাই ভালো।
• ফার্নিচারটি কাঠের নাকি অন্য কোন বোর্ডের তা জেনে নিন। কারণ ভালো কাঠের ফার্নিচারের দাম ও দীর্ঘস্থায়ীত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে।
• অনেক সময় ফার্নিচার কেনার সাথে মেরামত করার প্রয়োজন হয় তাই আগে থেকে এসম্পর্কে জেনে নিন।
তাছাড়া সার্বিকভাবে আসবাবটি ঘরের জন্য উপযোগী কেনা তা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। আশা করি ঢাকার কোথায় পুরাতন ফার্নিচার পাওয়া যায় তার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। অর্থ বাঁচানোর জন্য পুরানো আসবাব কিনে থাকি আমরা। তাই সেই আসবাবটি নিয়ে বাসায় যেতে খরচ এর বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। কারণ ১০ হাজার টাকার ফার্নিচার কিনে যদি আরো ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পিকআপ ভাড়া দিতে হয় তাহলে খুব একটা লাভ নেই।