বিশ্বব্যাপী একটি বড় সমস্যা হচ্ছে এখন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম অ্যাডিকশন। তাইতো নিজে এবং পরিবারের সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর উপায় সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। এমনকি এই বাজে অভ্যাসটা যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছুড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আগে থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
এটি একদিকে যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে অপরদিকে উৎপাদনশীলতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশে ১৬ বছর কিংবা তার চাইতে কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়ে থাকে। যদিও এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক চলছে তবু এটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহারের আসক্তি থেকে প্রজন্মকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর উপায়
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার কমানোর একটি উপায় হলো নিজের অভ্যাস সমূহ ভালোভাবে এনালাইসিস করা। যদিও অনেক স্মার্টফোনে এখন বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য। তবুও এর জন্য মানসিক উদ্যোগ সবচাইতে জরুরী। এজন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গুলো ব্যবহার নিতে পারেন।
• প্রায় সকল স্মার্টফোনে এখন স্ক্রিন টাইম দেখার সুবিধে রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে সারা দিনে কতক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। তাই প্রতিদিন নিজের এই গতিবিধে লক্ষ্য করুন এবং পরের পদক্ষেপ নিন।
• মোবাইলের হোমস্ক্রিন থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ গুলো সরিয়ে ফেলুন। যাতে করে ফোন নিলে এই ধরনের অ্যাপস সামনে না আসে।
• স্মার্টফোন দূরে রেখে চেষ্টা করুন একটি ফিচার বা বাটন ফোন ব্যবহার করার জন্য। এতে করে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলতে পারবেন অপরদিকে অহেতুক থেকেও দূরে থাকতে পারবেন।
Facebook addiction থেকে বের হওয়ার নিয়ম
নানা ধরনের ভুয়া খবর, আজেবাজে ছবি, ভিডিও, পোস্ট দিয়ে ভরে যাচ্ছে ফেসবুক । তা সত্ত্বেও ছাড়বেন ছাড়বেন করে কোনভাবেই ফেসবুক অ্যাডিকশন থেকে বের হতে পারছেন না। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর উপায় হিসেবে facebook থেকে বের হওয়ার সবচাইতে বেশি জরুরী।
গবেষকরা বলেছেন মাত্র চার সপ্তাহ যদি আপনি এই ধরনের অ্যাডিকশন থেকে দূরে থাকতে পারেন তাহলে আপনার মানসিক অবস্থার বেশ আমূল পরিবর্তন হবে।
এমনকি তারা আরও প্রকাশ করেছেন যে, ব্যবহারকারী মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য ফেসবুকের ভূমিকা খুবই কম। এ থেকে স্পষ্ট যে তরুণ প্রজন্ম ফেসবুকে আসক্তি হওয়ার কোনো কারণে তাদের মানসিক সাস্থ্যের পরিণতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এ সকল তথ্য জানার পর আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন হওয়া উচিত এবং ফেসবুক অ্যাডিকশন থেকে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মানসিক চাপ কমাতে সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর উপায় হিসেবে ডিটক্স কার্যকরী পদ্ধতি। এর মানে হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাইট যেমন instagram, twitter ফেসবুক ইত্যাদি ব্যবহার থেকে দূরে রাখা। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো মানসিক শান্তি, ভালো সময় এবং বাস্তব জীবনের সাথে সংযোগ তৈরি করা। যদিও আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া দিন কল্পনা করা যায় না তবুও নিজের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমাতে পারবেন।
• প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা ফোন ছাড়া কাটানোর অভ্যাস করুন।
• ঘুমানোর ১ ঘন্টা আগে ফোন দূরে রেখে দিন।
• প্রয়োজন ছাড়া মোবাইলের ওয়াইফাই কিংবা ডাটা অফ করে রাখুন।
• সুস্থ বিনোদনের জন্য খেলাধুলা করুন কিংবা পছন্দের কোন জায়গায় ঘুরতে যান।
• অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া জীবন কেমন
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানোর উপায় অবলম্বন করে থেকে যদি দূরে থাকতে পারেন তাহলে জীবন হতে পারে অনেক বেশি শান্ত অর্থবহ এবং প্রাণবন্ত। আমরা প্রায়ই দেখে কিছু লাইক, কমেন্ট বা ভিউয়ের উদ্দেশ্যে মানুষ কত ধরনের কাজকর্ম করে থাকে যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই।
তাই এটা ব্যবহারে কমিয়ে যে সময় বেঁচে যায় তা সৃজনশীল কোন কাজে ব্যয় করা যায় কিংবা নতুন কিছু শিখাও যায়। আবার ভার্চুয়াল যোগাযোগের চাইতে সরাসরি মানুষের সাথে মেশা এবং কথা বললে সম্পর্ক আরো বেশি গভীর ও মজবুত করে।
সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া জীবন হলো বাইরের কোলাহুল কমিয়ে নিজের সত্যের সাথে পুনরায় যুক্ত হবা। এটি একদিকে হয়তোবা অনেক চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে তবে দীর্ঘমেয়াদে এর উপকারিতাই বেশি।
“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম সময় কাটানোর উপকারিতা”-এ 1-টি মন্তব্য