বুদ্ধিমানদের মতো চিন্তা করুন I সমস্যা সমাধানের কৌশল

আমরা মস্তিষ্কের ক্ষমতার খুব সামান্য অংশই ব্যবহার করতে পারি। এমনকি বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তার ব্রেইনের দশ ভাগের বেশি ব্যবহার করতে পারেননি। তাইতো বুদ্ধি বাড়ানোর উপায় কিংবা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা যায় কিভাবে সেটির কিছু কার্যকর পদ্ধতি জানবো।

আমাদের সমাজে বুদ্ধিমান কিংবা চালাক লোকদের বেশ কদর রয়েছে। কারণ এই সকল লোকেরা বিভিন্ন সমস্যার সহজ সমাধান এবং যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাইতো সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সময় ক্যান্ডিডেটের বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা হয়। যত বড় চাকুরী কিংবা বিজনেস তত বড় বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন।

বুদ্ধি বাড়ানোর উপায়

একটি কথা প্রচলিত রয়েছে মানুষ যা খায় মানুষ তাই। এমনকি মাথার বেলায়ও এটি সত্য। অর্থাৎ মস্তিষ্ক দিয়ে আপনি যা করাবেন মস্তিষ্ক সেভাবেই বেড়ে উঠবে। চলুন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি বা বুদ্ধি বাড়ানোর কিছু পদ্ধতি জেনে।

১. কৌতুহলী হওয়া

এই মহাবিশ্বের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে কেন? নিজের মধ্যে সবসময় এই কৌতুহলে মনটাকে বাঁচিয়ে রাখুন। প্রতিদিনই কোন এক কোন না বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবা বা গবেষণা করুন।

২. নীরব থাকা

দিনের কিছু সময় নিজে একা থাকা বা নীরব থাকা প্রয়োজন। এই ধরনের সাইলেন্ট মোমেন্টে মস্তিষ্ক নানা কিছুর সঙ্গে কানেক্ট করতে চায়। তাইতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও সহজ হয়ে যায়।

৩. উল্টো করে চিন্তা করা

মাঝে মাঝে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলি উল্টো করে গুনতে থাকুন। এমনকি বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক যুক্তির সমাধানও এভাবে অভ্যাস করতে পারেন। এতে করে বুদ্ধির কার্যকারিতা ভালো হয়।

৪. আরাম আয়েশ বাদ দিন

যারা কিনা কোন কাজ কর্ম ছাড়া সারাদিন অলস দিন কাটায় তাদের মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে অলস হয়ে যায়। তাই দৈনন্দিন জীবনে কঠোর রুটিন মেনে চলা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য জরুরী।

৫. গণিত ও জ্যামিতি সমাধান

আইকিউ বা বুদ্ধি বাড়ানোর জন্য গণিত ও জ্যামিতির সমাধানের বিকল্প নেই। যদিও লেখাপড়া শেষ হয়ে থাকে তবুও মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক যুক্তি নিয়ে চিন্তা করুন।

৬. নতুন কিছু শেখা

প্রতিনিয়তই কোন না কোন কিছু শিখে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। সেটি হতে পারে কোডিং, কোন ভাষা, কোন স্কিল বা টেকনিক্যাল কোন কিছু। এতে করে আমাদের ব্রেইন সচল থাকে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত রেসপন্স করে।

৭. মনোযোগ

কারো সাথে কথা বলা খবর দেখা কিংবা কোন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সময় অবশ্যই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করে।

৮. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় রিলস এবং খবর দেখে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে যায়। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর পদ্ধতির মধ্যে একটি হচ্ছে যথাসম্ভব এই সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার কমানো।

৯. ব্যায়াম করা

শরীর সুস্থ থাকলেই মন এবং ব্রেইন সবল থাকবে। তাই যে করেই হন তিনি অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট সময় বের করুন ব্যায়াম করার জন্য। এতে নিউরো ট্রাফিক ভালো থাকে।

১০. খাবার

সঠিকভাবে ব্রেনের কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য সুষম এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার জরুরী। কলা, গ্রিন টি, কফি, কলিজা, সামুদ্রিক খাবার সবজি ইত্যাদি মস্তিষ্ক ভালো রাখে।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্য। একই সাথে জীবনের কোন যদি এই মানসিক চাপ কিংবা ঋণ থাকে তাহলে সেটি অবশ্যই দ্রুত মেটানো প্রয়োজন। কারণ মনের মধ্যে এই ধরনের চাপ সৃষ্টিকারী ঘটনা গুলি আমাদের স্মৃতিশক্তি সঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না।

সবকিছু লিখে রাখা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির আরও একটি উপায়। এতে করে আমাদের মস্তিষ্ক সিগন্যাল দেয় যেটি লিখে রাখা হয়েছে সেটা নিয়ে আর চিন্তা করার দরকার নেই। এতে করে ব্রেইন দ্রুত খালি হয় এবং অন্য কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করার জন্য প্রস্তুত হয়।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কিছু খাদ্য হচ্ছে চর্বিযুক্ত মাছ, কুমড়োর বীজ, বাদাম, রঙিন শাকসবজি ইত্যাদি।

ধাঁধা ও উত্তর সমাধান

বিভিন্ন ধরনের ধাঁধা এবং উত্তর খোঁজার চেষ্টা মাধ্যমে বুদ্ধির দুয়ার খুলতে পারে। সিনেমা কিংবা বইতেও আমরা করি যে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা চরিত্রগুলো সবসময়ই ধাঁধা এবং উত্তর খোঁজায় দক্ষ। যার কারনেই তারা জটিল রহস্যের ও সমাধান করতে পারে।

ইংলিশএ কথা বলা শিখতে এখানে চাপ দিন

যদিও প্রথমদিকে এটি করতে বেশ বেগ পেতে হবে তবে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

সাধারণ জ্ঞান চর্চা

স্কুলে, এডমিশন কিংবা চাকরির প্রস্তুতিতে আমরা কম বেশি সবাই সাধারণ জ্ঞান চর্চা করেছি। একটা কথা মনে রাখবেন বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে বড় শক্তি হচ্ছে তথ্য। অর্থাৎ যে এর কাছে যত বেশি তথ্য রয়েছে সেই ততো বেশি স্মার্ট এবং বুদ্ধিমান।

তাই মোবাইল যত্রতত্র রিলস ভিডিও না দেখে সাধারণ জ্ঞান চর্চা করুন। পত্রপত্রিকায় দেশ বিভাগের খবর দেখুন। এতে করে প্রচুর পরিমাণে তথ্য জানা হবে এবং যে কোন জিনিসে সহজে ধরতে পারবেন। এটি বুদ্ধি বানানোর উপায়।

মাথা খাটানোর খেলা

দাবা, সুডাকো সহ অনেক ধরনের খেলা রয়েছে যেগুলোতে শুধুমাত্র মস্তিষ্কের ব্যবহার করতে হয়। সারা পৃথিবী জুড়ে উচ্চ আইকিউ কিংবা জিনিয়াস লোকদের নির্বাচন করার জন্য দাবা সহ এ ধরনের মাথা খাটানোর খেলার আয়োজন হয়ে থাকে।

কারণ যখন কেউ দাবা খেলতে থাকে তখন তাকে সমস্যার সমাধান নিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং চিন্তা করতে হয়। এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কে অনেক গুণ বৃদ্ধি করতে পারে। তাই মাঝে মাঝে আশেপাশের লোকজনের সাথে এ ধরনের মাথা কাটানোর খেলায় বসে পড়ুন।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, সুস্থ জীবন যাপন বুদ্ধি বাড়ানোর জন্য অন্যতম নিয়ামত। তাছাড়া যারা নিয়মিত পড়াশুনায় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা আরো বেশি কাজে লাগাতে চান তারা ভোরবেলা পড়তে বসতে পারেন। তবে দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম তো অবশ্যই প্রয়োজন হবে। সবকিছু নোট করে রেখা আরও একটি ভালো অভ্যাস থেকে শক্তি বৃদ্ধির জন্য। কারণ আমরা যখন কোন কিছু লিখি আমাদের ব্রেন সেটি খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারে।

মন্তব্য করুন