সুন্দরবন ভ্রমণের সেরা সময় ও বিস্তারিত গাইডলাইন

দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য সেরা সময় হচ্ছে শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ)। কারণ এই সময়ে দেশে শীতকাল বিরাজমান থাকায় পরিবেশ থাকে ঠান্ডা এবং মনোরম। যা কিনা সুন্দরবন উপভোগ করার জন্য আদর্শ সমান।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস অর্থাৎ বর্ষাকালে সুন্দরবন সৌন্দর্য আরো অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। কারণ এই সময়টাতে নদী এবং খালের প্রাণী বৃদ্ধি পাওয়ায় চারপাশটা অনেক বেশি সুন্দর দেখায়। তবে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া এসময় ভ্রমণ করাটা কিছুটা ঝুকিপূর্ণ। যারা সাঁতার জানেন না তাদের জন্য এ ধরনের স্থান পরিহার করা উচিত।

এপ্রিল থেকে জুন মাস অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে সুন্দরবন ভ্রমণ আরামদায়ক নাও হতে পারে। বাংলাদেশে এই সময়টিতে তাপমাত্রা বেশি থাকায় দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণ ক্লান্তিকর হয়। তবে যারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুভব করতে চান তাদের জন্য শীতকালে সবচাইতে বেশি উপযুক্ত সময়।

তবে ভ্রমণের পরিকল্পনার আগে অবশ্যই স্থানীয় পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেন।

সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ ও খরচ

বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সুন্দরবন ভ্রমণের প্যাকেজ নেওয়া যায়। এতে করে যাতায়াত, থাকা ইত্যাদি ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায় বলে অনেকেই এই প্যাকেজ ট্যুর পছন্দ করেন।

এই ধরনের প্যাকেজের সাধারণত থাকা, খাওয়া, ফরেস্ট পার্মিশন, গাইড, ছোট নৌকায় ভ্রমণ ইত্যাদি সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। খরচ নির্ভর করে সদস্য সংখ্যা ভ্রমণের সময়, যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদির ওপর। একটা, ভ্রমণের জন্য ৩ দিন ২ রাতের স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজের মূল্য হতে পারে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। একই সময়ের জন্য প্রিমিয়াম প্যাকেটের মূল্য হয় সাধারণত ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।

সাধারণত এসি, নন এসি, খাবার সুবিধা, হোটেলের ধরন ইত্যাদির ওপর এই মূল্য নির্ধারিত হয়। কাপল কিংবা টুইন বেডের জন্য খরচ আরো বেশি হতে পারে।

ঢাকা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার জন্য প্রথমে খুলনা বা মংলা যেতে হবে। কারণ এখান থেকেই নৌকার মাধ্যমে সুন্দরবনে যাওয়া যায়। আবার ঢাকা থেকে খুলনা পৌঁছানোর জন্য বাস, ট্রেন কিংবা বিমান ব্যবহার করা যায়। যারা কিনা ভ্রমণের খরচ বাজাতে চান তাদের জন্য বাস কিংবা ট্রেন আদর্শ। মংলা পৌছানোর পর লঞ্চ বা নৌকা দিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা সম্ভব।

করমজল পর্যটন কেন্দ্র

করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি মূলত সুন্দরবনের অন্যতম একটি ট্যুরিজম কেন্দ্র। এটি পশুর নদীর তীরে অবস্থিত যা কিনা মংলা বন্দর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। হরিণ প্রজনন কেন্দ্র এবং দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কুমির প্রজনন কেন্দ্র, বন্যপ্রাণীর অভয়াণ্যের জন্য এটি বেশ বিখ্যাত। এখানে এসে দর্শনার্থীরা কাঠের ট্রেইল, টাওয়ার এবং সুন্দরবন এর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। মংলা বন্দর থেকে স্পিডবোড কিংবা নৌকা ভাড়া করে এখানে আসা যায়। যেহেতু খুব কাছেই অবস্থিত তাই একদিনের মধ্যেই ঘুরে আসা সম্ভব।

সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান

পৃথিবীর অন্যতম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে অবস্থিত। এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে তালিকাভুক্ত। তাছাড়া দুর্লভ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য পৃথিবী জুড়ে সুনাম রয়েছে সুন্দরবনের।

সুন্দরবন ভ্রমণে আকর্ষণীয় কেন্দ্র সমূহ

• মংলা বন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত করমজল ট্যুরিজম সাইট যেখানে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র।
• কটকা বিচে বাঘ দেখার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি এবং রয়েছে সৈকত ওয়াচ টাওয়ার।
• পশুর নদীর তীরে আরও একটি পর্যটনায় স্থান হারবাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র।
• হরিণ, বাঘ, বানর এবং বিভিন্ন পশু পাখি দেখার জন্য রয়েছে হিরন পয়েন্ট।
• শুটকি মাছের জন্য সুপরিচিত দুবলার চর।
• পাখি প্রেমিকদের জন্য রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।

লঞ্চে সুন্দরবন ভ্রমণ

প্রকৃতির সামনে তে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে লঞ্চের সমুদ্র ভ্রমণ করা বেশ ভালো আইডিয়া। এর মাধ্যমে জামতলা, হারবাড়িয়া ও করমজল দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এমনকি সুন্দরবনের গহনে গিয়ে রাতজাপন কিংবা সুস্বাদু খাবার উপভোগ করার জন্য লঞ্চ বেশ ভালো জান।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

• কত দিনের প্যাকেজ পাওয়া যায়?
উত্তর: সুন্দরবন ঘুরে আসার জন্য সাধারণত ২ থেকে ৭ দিনের প্যাকেজ পাওয়া যায়। তবে নিজের চাহিদা মত এই প্যাকেজের সময়সীমা বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

• সুন্দরবন ভ্রমণের খরচ কত?
উত্তর: সাধারণভাবে জনপ্রতি ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকা খরচ হতে পারে ২ দিনের জন্য।

• সুন্দরবন কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। বাগেরহাট, খুলনা এবং সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।

• সুন্দরবন ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: অক্টোবর থেকে মার্চ মাস আদর্শ সময় কারণ এই সিজনে থাকে ঠান্ডা আবহাওয়া এবং মনোরম পরিবেশ।

বর্ষাকালে পানির চাপ বেশি থাকায় ঝুঁকিও বেশি থাকে এবং নৌচলাচল ব্যহত হয়। আর যারা সাঁতার জানেন না তাদের জন্য অবশ্যই সাথে দক্ষ গাইড নিতে হবে। সেই সাথে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার, পানির বোতল, প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং আরামদায়ক কাপড় রাখা উচিত।

মন্তব্য করুন