জীবনে চলার পথে আমরা নানা সময়েই বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হই। মন শান্ত রাখার উপায় জানার মাধ্যমে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার সহজ হয়। অনেকেই বিপদ-আপদে ভেঙে পড়ে এবং তাতে করে ভোগান্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। চলুন কিভাবে এই ধরনের বিরুপ সময়ে অশান্ত মনকে শান্ত করে জীবন ও কাজের সাবেক গতিতে ফিরে যেতে পারবেন তা জেনে নেই।
• কোন খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর একটু থামুন। শরীরের কোথাও খারাপ লাগছে, বুক ধরফর করে কিনা, রক্তচাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা সেগুলো মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন। ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ভাবার জন্য পরে সময় পাবেন।
• বিপদের সময়ে আমাদের মনের সাথে সাথে শরীরও অশান্ত হয়ে ওঠে। এসময় মনকে শান্ত করার উপায় হিসেবে পানি পান করুন এবং জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকুন। শরীরে অক্সিজেন প্রবাহিত হলে কিছু সময় পর শরীর এবং মন দুটোই শান্ত হয়ে পড়বে।
• বিশৃংখল পরিবেশে এর শান্ত থাকার জন্য কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই কথা এবং বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করুন। এতে করে দেখবেন আপনি নিজেও ভালো অনুভব করছেন।
মেডিটেশন করার সঠিক নিয়ম
কাজ, পরিবার, বিজনেস, লেখাপড়া, সমাজ ইত্যাদির কারণে আমরা প্রায়ই স্নায়ু চাপে ভুগে থাকি। আর এই ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য মেডিটেশন চর্চার পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। মেডিটেশন মাধ্যমে ফুসফুস ভালো থাকে। চলুন মেডিটেশন করার সঠিক নিয়ম জেনে নেই।
প্রথম ধাপ: সুন্দর এবং নিরিবিলি কোন জায়গা বেছে নিন যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা আছে এবং আলো বাতাস চলাচল করতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ: কাছাকাছি এ সময় ঘটে যাওয়া কোন আনন্দদায়ক কথা মনে করুন এবং চোখ হালকাভাবে বন্ধ করুন। নাক দিয়ে দম ভরে শ্বাস নিন।
তৃতীয় ধাপ: দম স্বাভাবিক পর্যায়ে আনুন এবং লক্ষ করুন কিভাবে নাকের ভেতর দিয়ে ফুসফুসে বাতাস ঢুকছে আবার বের হচ্ছে। এই শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়ামটা মেডিটেশনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অবস্থায় মনের মধ্যে সকল রাখো বা দুশ্চিন্তা দূর করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে থাকুন।
সঠিক নিয়মে মেডিটেশন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের টিউটোরিয়াল ভিডিও পাওয়া যায় ইউটিউবে। এখান থেকেও আমরা আপনারা শিখতে পারেন
মনোযোগ বৃদ্ধির উপায়
কোন কাজে যদি পূর্ণ মনোযোগ না দেওয়া যায় তাহলে সেটা তো সম্পন্ন হয় না বরং আরো ভুল হয়ে বিপত্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য নিচের কয়েকটি পদক্ষেপ আলোচনা করছে যা সবার জন্য জানান জরুরী।
• পড়াশোনা কিংবা কাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে রুটিন তৈরি করুন।
• কাজের সময় সকল প্রকার ডিভাইস কিংবা আলোচনা থেকে দূরে থাকুন।
• পড়াশোনা বা কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেই।
• মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন।
• নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
• সুস্বাস্থ্য এবং মস্তিষ্কের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খুবই জরুরী।
• কাজ কিংবা অফিসের পরিবেশ গুছিয়ে রাখুন।
• কাজের সময় দুশ্চিন্তা এলে তা লিখে রাখুন এবং ঠিক করে রাখুন সেটি অন্য কোনদিন ভাববেন।
নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধির উপায়
নামাজে দাঁড়ানোর পর দুনিয়ার সকল চিন্তা মাথায় এসে ঘুরপাক খায়। অনেকেই এই ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন এবং এর কারণ হচ্ছে শয়তানের ওয়াসওয়াসা। এতে করে নামাজের সময় অন্য যে কোন কাজের প্রতি স্পৃহা বেড়ে যায় এবং মনোযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য নিচের কয়েকটি আমল করতে পারেন।
• মহাবিশ্বের প্রতিপালক এবং মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে হাজিরা দেওয়ার জন্যই আপনি অজু করে নামাজে দাঁড়িয়েছেন। এই চিন্তা মনের মধ্যে রাখুন।
• যথাযথভাবে ওজন সম্পন্ন করুন এবং ওজর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলুন।
• ওজু শেষে দোয়া পড়া অভ্যাস করুন।
• নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে বিশুদ্ধ তেলাওয়াত করা। এটি মানুষের মনকে নামাজের প্রতি বেশি মনোযোগী করে তোলায়।
• আবার শুধুমাত্র মুখস্থ দোয়া পরিবর্তে কেউ যদি অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করে তাহলে সেটি মহান আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে অনেক বেশি মনোযোগ তরীতে সহায়তা করে।
• অবশ্যই আন্তরিকভাবে নামাজ পড়তে হবে কারণ আপনি মহান আল্লাহ তায়ালার সামনে দাঁড়িয়েছেন।
• মনের মধ্যে সবসময় মৃত্যুর ভয়কে আনা এবং প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ কে জীবনের শেষ নামাজ মনে করুন দেখবেন মনোযোগ ফিরে এসেছে।
আল্লাহতালা আমাদের সবাইকে মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন আমিন।
মানসিক প্রশান্তি লাভের দোয়া ও আমল
ছোট ছোট বিষয় নিয়েও এখন অনেক মানুষ দুশ্চিন্তা এবং হতাশায় ভুতে থাকেন। এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে মূলত শয়তানের প্ররোচনায়। কারণ যে জিনিস চিন্তা করে কোন ফল হবে না কিংবা এতে জীবনে হয়তো বা খুব বেশি পরিবর্তন হবে না তবুও সেই ধরনের চিন্তা মাথায় যেন জেকে বসে।
যখনই এ ধরনের মানসিক অস্থিরতায় ভুগবেন তখনই মহান আল্লাহতালার দরবারে দাঁড়িয়ে যান এবং নামাজ পড়ুন। এমনকি রোজাও রাখতে পারেন। দান করার মাধ্যমে বিপদ আপদ বালা মুসিবত কেটে যায়। তাই অভ্যাস করো নিয়মিত দান করার। তাছাড়া দিনের বেশিরভাগ সময়ই দরুদ এবং ইস্তেগফার পাঠের কথা বলে থাকে আলেমগণ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মানুষের প্রশান্তি লাভ করা যায় ঠিক অপরদিকেও মহান আল্লাহতালার রহমত পাওয়া যায়।
ঘুমের সমস্যা সমাধানের উপায়
যদি শরীর সুস্থ থাকে তবেই মনোযোগ দিয়ে অন্য কাজ করা সম্ভব। আর সুস্থ শরীরের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম। কিন্তু বর্তমান যুগের ছোট বড় সকল মানুষই কম বেশি ঘুমের সমস্যায় ভুগে থাকেন।
একজন পুনঃবয়স্কের মানুষের ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। বাচ্চা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘুমের পরিমাণ আরো বেশি। রাতের বেলা ঘুম না আসা কিংবা কিছুক্ষণ পর পর ঘুম ভেঙে যাওয়াকে বলা হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগ। কিভাবে এই অনুগ্রহ রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন চলুন জেনে নেই।
• রাত জেগে কাজ না করে যথা সম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন।
• ঘুমের সমস্যা সমাধানের জন্য অবশ্যই প্রতিদিন একই সময়ে ক্ষমতা যেতে হবে।
• চা, কফি কিংবা ক্যাফিন থেকে দূরে থাকুন। আর যদি খেতেই হয় তবে অবশ্যই বিকালের আগে খাওয়া শেষ করুন।
• রাতে ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।
• সন্ধ্যার পর চেষ্টা করুন যত সম্ভব কম ডিভাইস ব্যবহার করার।
• ঘুমের সমস্যার পিছনে খাদ্যের ভূমিকা আছে। তাই শাকসবজি এবং সুষম পুষ্টিযুক্ত খাবার খান।
• ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ এবং কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল ঘুমের সমস্যার সমাধান করে।
• প্রেমের পরিবেশ যথাসম্ভব ঠান্ডা এবং নীরব রাখার চেষ্টা করুন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ওজন বৃদ্ধি সহ ধরনের মস্তিষ্কের সমস্যা হতে পারে। তাই দিনের বেলা যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন চেষ্টা করুন রাতের বেলায় ঠিকঠাক ঘুমানোর।