সম্প্রতি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কারণে অনেক চাকরিপ্রার্থী কাস্টমস সিপাহী পদের দায়িত্ব ও কাজ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই পদটি ১৭তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত এবং বেতন স্কেল ৯,০০০ থেকে ২১,৮০০ টাকা। চলুন সহজভাবে এই পদের কাজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
কাস্টমস সিপাহীর মূল দায়িত্ব
কাস্টমস সিপাহী হিসেবে যারা নিয়োগ পাবেন, তাদের প্রধান কাজ হলো দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও তদারকি করা।
বিশেষ করে:
- অবৈধভাবে পণ্য আমদানি-রপ্তানি রোধ করা
- শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্য শনাক্ত করা
- চোরাচালান প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা
- প্রয়োজনে যাত্রীদের তল্লাশি করা
- ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী ভ্যাট ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করা
- প্রটোকল ডিউটি পালন করা
এই নিয়োগটি মূলত মংলা সমুদ্র বন্দরের জন্য হওয়ায়, নির্বাচিত প্রার্থীদের বেশিরভাগ সময় সমুদ্রবন্দরে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সেখানে অবৈধ বা শুল্কবিহীন পণ্য জব্দ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অন্যতম কাজ।
তবে পোস্টিং যেখানেই হোক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর বা সীমান্তে দায়িত্ব প্রায় একই ধরনের থাকে। অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষে একজন প্রার্থী যোগদান করার পরে দেশে সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সুযোগ পাবে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে কিছু কথা
যেহেতু এই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান, তাই আবেদন করার সময় এসএসসি সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। আবেদন ফি জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি, যাতে কোনো ভুল না থাকে।
অনলাইনে আবেদন করার জন্য কখনো শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং শেষ সময় সীমার কয়েকদিন আগেই আবেদনপত্র সাবমিট করে ফি পরিশোধ করুন।
পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত সাধারণ জ্ঞান
এই ৪ টি বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়, যার মোট নম্বর প্রায় ৭০। এরপর প্রায় ৩০ নম্বরের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা হয়। তবে নির্দিষ্ট মানবণ্টন নিয়োগ কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভাইভা পরীক্ষার পড়াশোনা মোটামুটি একই ধরনের। যেহেতু এই নিয়োগে শারীরিক যোগ্যতা এবং উচ্চতার কথা বলা হয়েছে তাই কিছুদিন ব্যায়াম করা উচিত। এতে করে শারীরিক পরীক্ষা নিয়োগ সহযোগী পাস করা যায়। যেহেতু শব্দই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে তাই কাস্টমস সিপাহী পদের পরীক্ষা হতে বেশ কিছুদিন সময় পাওয়া যাবে।
প্রস্তুতির টিপস
প্রস্তুতির জন্য বাজারে থাকা সাধারণ চাকরির বইগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়লে ভিত্তি আরও মজবুত হয়। এছাড়া আগের বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
আশা করি কাস্টমস সিপাহী পদের কাজ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে আপনার ধারণা এখন আরও পরিষ্কার হয়েছে। আপনার জন্য রইলো আন্তরিক শুভকামনা!