কক্সবাজার ভ্রমণে প্রতারণা এড়াতে যা জানা জরুরি

পৃথিবীর অন্যতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ভ্রমণে প্রতারণা এড়াতে কিছু বিষয় জানা যাবে। দর্শনীয় স্থানটি দেখতে প্রতিবছর দেশ এবং বিদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। নিজের ভ্রমণকে আরো বেশি আনন্দদায়ক করতে মৌলিক সর্তকতাবলী জেনে রাখা ভালো।

সবার আগে সৈকতে নামার ক্ষেত্রে সাবধানতা প্রয়োজন। নির্ধারিত পয়েন্ট ছাড়া অন্য পয়েন্টের পানিতে নামলে নেমে আসতে পারে বিপদ। এক্ষেত্রে অবশ্যই লাইফ গার্ড বা পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পানির ঢেউ যদি বেশি হয় কিংবা আবহাওয়া খারাপ হয় তাহলে নামা উচিত নয়।

তারপর আসে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়। যেহেতু সুন্দর সৈকতে অনেক মানুষের আনাগোনা রয়েছে তাই ভিড়ের সময় মানিব্যাগ, মোবাইল, ক্যামেরা ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী যত্ন সহকারে রাখা প্রয়োজন। একইভাবে রাতের বেলা একা একা কিংবা নির্জন স্থানের ঘোরাফেরা এড়িয়ে চলতে হবে। হোটেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরাপত্তা পরিচ্ছন্নতা এবং রিভিউ দেখে বুকিং করুন।

যাদের সাথে শিশু কিংবা বয়স্ক মানুষ রয়েছে তাদের একা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। সেই সাথে খাবার-দাবার বাচ্চায় বাছাইয়ের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সী বিচের আশেপাশে নিম্নমানের ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়ার আগে অবশ্যই দাম মিটিয়ে নেবেন।

কক্সবাজার ভ্রমণে অবশ্যই স্থানীয় আইন নির্দেশনা এবং পরিবেশগত নিয়ম মানা অপরিহার্য। সেই সাথে বীচে ছবি তোলার ক্ষেত্রে ক্যামেরাম্যান ভাড়া করে থাকে অনেকেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করে এবং বেশি টাকা নেওয়ার ধান্দা করে। তাই ছবি তোলার আগে সম্পূর্ণ বিষয় ভালোভাবে আলোচনা করুন। যদি কোন অসঙ্গতি বা আপনার শিকার হন তবে সাথে সাথে টুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নেই।

কক্সবাজার হোটেল ভাড়া ও বুকিং

দূর থেকে যারা কক্সবাজারে ঘুরতে যাবেন তাদের ক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয় একটি বিষয় হচ্ছে হোটেল ভাড়া করা। কক্সবাজার হোটেল ভাড়া করা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয় তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু সর্তকতা মনে প্রয়োজন। যত্রতত্র ছোটখাটো কিংবা অপরিচিত হোটেল বা রিসোর্টে ওঠে না উঠে অবশ্যই রিভিউ দেখে এবং পরিচিত হোটেলে ওঠা সঠিক ভালো। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তা নিতে পারেন অথবা অনলাইনে রিভিউ দেখে হোটেল বুকিং করুন। সিজনের সময় বা ছুটির দিনে হোটেল ভাড়া কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে বাড়ার সাথে কি কি সুযোগ-সুবিধা থাকছে তা আগে থেকেই জেনে নিন

মোটামুটি ভালো মানের একটি হোটেলে কাপল বেডের জন্য দৈনিক খরচ হতে পারে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। সিঙ্গেল এবং সদস্য উপর ভিত্তি করে এই খরচ বাড়তে বা কমতে পারে। তবে অফ সিজন অথবা দামদর করলে আরো কিছুটা কমে হোটেল বুকিং করা যায়।

ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন ভাড়া

অনেকেই ট্রেন জার্নি পছন্দ করেন। যদিও এক ক্ষেত্রের সময় লাগে তবে আশেপাশের মনোরম পরিবেশ বেশ ভালোই উপভোগ করা যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেন ভাড়া সাধারণত নন এসি ৭০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এসি সিটের ভাড়া ১৫০০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ২৩৮০ টাকা। ট্রেনের টিকেট কাটার সময় কখনোই অতিরিক্ত কোন অর্থ প্রদান করবেন না।

সেন্টমার্টিন জাহাজের টিকেট মূল্য

কক্সবাজার ঘুরতে যাবেন অথচ সেন্টমার্টিন যাবেন না তা আসলে হয় না। পৃথিবীর অন্যতম একটি প্রবাল দ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন। আগে সারা বছর এখানে যাতায়াত করা গেলেও বর্তমানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য খোলা খোলা থাকে।

জোয়ার ভাটার সময় অনুযায়ী সেন্টমার্টিন রোডে পর্যটক চলাচলের অনুমতি রয়েছে। ভ্রমণের জন্য প্রতিটি যাত্রীর ট্রাভেল পাস লাগবে অবশ্য জাহাজের টিকেট কিনলেই ট্রাভেল পাস পাওয়া যায়। টিকিটের হার্ডকপি অবশ্যই নিজের সংগ্রহ রাখতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত টিকিট ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য কর্ণফুলী এক্সপ্রেস এর যাওয়া এবং আসার টিকিটের মূল্য ৩৫০০ টাকা। আবার শুধুমাত্র যাওয়া কিংবা আসার টিকিটের মূল্য ১৮।

কেবিন, লাউঞ্জ, সিঙ্গেল কেবিন, ডাবল বেড, ভিআইপি কেবিন ইত্যাদি সুবিধা পেতে একজন গ্রাহক ১৮০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্যাসিলিটির টিকিট ক্রয় করতে পারেন।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান সমূহ

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনন্য একটি উদাহরণ কক্সবাজার। পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত যেটির দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। তাছাড়াও কক্সবাজারে আরো কিছু দর্শনীয় স্থান হচ্ছে:-

• লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলী সমুদ্র সৈকত
• পাহাড় এবং সাগরের গা ঘেঁষে তৈরি ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক।
• হিমছড়িতে রয়েছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সমুদ্র এবং জলপ্রপাত।
• স্বচ্ছ এবং পাথরে সৈকতের জন্য বিখ্যাত ইনানী বিচ
• মহেশখালী দ্বীপ যা কিনা পাহাড় এবং মন্দিরও বনের জন্য পরিচিত
• ঐতিহাসিক রামু বৈদ্য বিহার
• নির্জন ও প্রাকৃতিক ঘেরা সোনাদ্বিয় দ্বীপ
• সেন্টমার্টিন

উক্ত স্থান ছাড়াও ঘসিরামের মন্দির, চকরিয়া শ্বেত পাহাড় সহ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে

ইনানী বিচ ও হিমছড়ি ভ্রমণ

কক্সবাজার থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার আবার হিমছড়ি থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইনানী সি বিচ। ভাটার সময়ে এই সমুদ্র সৈকতে সেন্টমার্টিনের মত প্রবাল পাথর দেখা যায়। এখানে সাধারণত কক্সবাজারের মত সাগর এত উত্তাল থাকে না যা পর্যটকদের আরো বেশি আকৃষ্ট করে। সাধারণত বিকেলবেলা ভ্রমণের জন্য সবচাইতে বেশি উপযোগী। কারণ এখানে দেখা মেলে অপূর্ব সূর্যাস্ত।

টেকনাফ হতে মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে যাবার সময় অবশ্যই হিমছড়ি পাহাড় নেমে যাওয়া উচিত। এখানে দেখা মেলে নারিকেল এবং ঝাউবন গাছের সারি যা আমরা মাঝে মাঝেই টিভি কিংবা সিনেমায় দেখে থাকে। এমন মনেরো প্রাকৃতিক দৃশ্য যা কিনা মুহূর্তেই আপনার মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেবে।

বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষেরই কক্সবাজার ভ্রমণের ইচ্ছা থাকে। যারা ইতিমধ্যে ভ্রমণ করেছেন তারাও সুযোগ পেলেই আবার যেন ছুটি যেতে চান প্রকৃতি এবং সাগরের মাঝখানে। ব্যস্ত কিংবা কর্মময় জীবনের ক্লান্তি দূর করার জন্য এই জায়গার মতো স্থান যেন দ্বিতীয় ডিয়ার নেই। তবে ছুটির দিনগুলো পরিহার গেলে অফ সিজনে সাধারণত ভিড় কম থাকে এবং ঘুরেও বেশ মজা পাওয়া যায়। আমার পরামর্শ রইলো হাতে সময় নিয়ে কক্সবাজারের পাশাপাশি আশেপাশে আরও সকল দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করা। এতে করে কক্সবাজার ভ্রমণ হবে আরো বেশি আনন্দদায়ক।

“কক্সবাজার ভ্রমণে প্রতারণা এড়াতে যা জানা জরুরি”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন