ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়টি হয়তোবা আমাদের অনেকেরই অজানা। আশেপাশের অনেক মানুষকে দেখে থাকি যে তারা ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানায় এবং ব্লগ ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লিখেন। এর মাধ্যমে যে ইন্টারনেটে বেশ পরিচিতিতে লাভ করা যায় সেটা আমরা জানি। কিন্তু এর থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এবং এ টাকা কোথা থেকে আসে তা নিয়ে আজকে আলোচনা করব। সেই সাথে বাংলা ব্লগ সাইট বানিয়ে গুগল থেকে আয়ের উপায়ে এ টু জেড জানবো।
ব্লগিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়
ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার উপায় জানার আগে আমাদেরকে জানতে হবে গুগল এডসেন্স কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে। যখন কেউ ইউটিউব অথবা কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করে তখন সেখানে বিভিন্ন পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দেখতে পায়। এই বিজ্ঞাপন বা advertise নিয়ন্ত্রণ করে হচ্ছে গুগল এডসেন্স। যখন কারো ইউটিউব ভিডিও কিংবা ব্লগিং চ্যানেলে ভিজিটর আসা শুরু করে তখন সেই ভিজিটরদের কাছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পণ্য কিংবা সেবার বিজ্ঞাপন করে গুগল এডসেন্স। এতে করে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠান মালিকরা সহজেই মানুষের কাছে তাদের পণ্যের পরিচিতি পৌঁছাতে পারে ঠিক তেমনিভাবে ওয়েবসাইট চ্যানেল এর মালিক কিছু টাকাও আয় করতে পারে।
সিস্টেমটি কিভাবে কাজ করে চলুন কয়েকটি ধাপে জেনে নেই,
১. প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন ব্যক্তি গুগলের কাছে তাদের বিজ্ঞাপন প্রদান করে এবং সেই সাথে সে বিজ্ঞাপনটি মানুষের কাছে প্রচার করার জন্য চুক্তিভিত্তিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কিছু অর্থ প্রদান করে।
২. গুগল এডসেন্স সেই বিজ্ঞাপন গুলোই আপনার ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে প্রচার করে।
৩. প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যে অর্থ প্রদান করেছিল গুগল এডসেন্সকে সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন ব্লগারকে দেওয়া হয়।
আর এভাবেই ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করা যায়। এখানে একটি মূল প্রশ্ন হচ্ছে মাসে কত টাকা এভাবে আয় করা যায়? সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইটের ধরন কোয়ালিটি প্রতিনিয়ত কত ভিজিটর আসছে কোন কোন দেশ হতে ভিজিটর আসছে এসব বিষয়ের উপর। তবে মোটামুটি মধ্যমানের একটি ব্লগিং সাইট হতে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা যায়।
আর যদি বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশে ভিজিট আসে তাহলে সেই আয়ের পরিমাণ তো ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ও হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন উন্নত মানের কনটেন্ট ওয়েবসাইটের সুন্দর ডিজাইন এবং অন্যান্য বিষয়াদি।
ফ্রি ওয়েবসাইট খোলার নিয়ম
ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগার কিংবা উইক্স ব্যবহার করে আমরা খুব সুন্দর ভাবেই একটি ফ্রি ওয়েবসাইট খুলতে পারি। চলুন এর ধাপগুলো জেনে নেই।
• প্লাটফর্ম বেছে নিন : ফ্রি ওয়েবসাইট খোলার জন্য সবচাইতে দুইটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে এই ওয়ার্ড প্রেস এবং ব্লগার। এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিন।
• ইমেইল এড্রেস দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট ওপেন করুন।
• ওয়েবসাইটের জন্য একটি নাম নির্ধারণ করো। ফ্রি একাউন্ট এর ক্ষেত্রে সাধারণত ওয়েবসাইটে ডোমেইন নামের শেষের ডট ব্লগার কিংবা ডট ওয়ার্ড প্রেস শব্দটি থাকতে পারেন।
• ওয়েবসাইটের জন্য সুন্দর একটি থিম কিংবা ডিজাইন টেমপ্লেট বেছে নিন।
এরপর নিজের পছন্দমত ডিজাইন কাস্টমার করুন ফোন সিলেক্ট করুন রং এবং ছবি আপলোড দিন। সেই সাথে যুক্ত করুন আপনার কনটেন্ট। রেডি হয়ে গেল আপনার ফ্রি ওয়েবসাইট।

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়
ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার বিষয়টি তো আমরা জানলাম। তবে এই টাকা আয়ের জন্য ওয়েবসাইটকে গুগল এডসেন্সের উপযোগী করে বানাতে হয়। গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় আসলে সুনির্দিষ্ট নয়। নিয়ম মানলে খুব দ্রুত এডসেন্স পেতে পারেন।
• যথাসম্ভব সুন্দর এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন টিম ব্যবহার করুন।
• নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড দিন।
• চেষ্টা করবেন কনটেন্ট যেন ৩০০ ওয়ার্ডের ছোট না হয়।
• ওয়েবসাইটের স্পিড ঠিক আছে কিনা সেটা যাচাই করুন। যদি স্লো হয় কিংবা লোড নিতে যদি বেশি সময় লাগে তাহলে এডসেন্স নাও পেতে পারেন।
• কপিরাইট যুক্ত কোন ছবি কিংবা গ্রাফিক্স ব্যবহার করবেন না।
• ওয়েবসাইটে যারা বিভিন্ন বিষয়ে কমেন্টস করে তাদের কমেন্টসের রিপ্লাই দিন।
• কনটেন্ট আপুদের জন্য নির্দিষ্ট একটি নিশ বেছে নিলে চেষ্টা করুন সেই নিচের উপর খুঁটিনাটি সকল বিষয়ে লেখালেখি করার।
• যদি নিয়মিত ট্রাফিক আসতে থাকে তাহলে অবশ্যই এডসেন্স পেয়ে যাবেন।
ব্লগের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ
ব্লক ওয়েবসাইটের একটি কন্টেন্টের ট্রাফিক আনার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করতে চায় তাহলে তাকে এই বিষয়ে অবশ্যই রিসার্চ করতে হবে। এর সহজ কয়েকটি উপায় হল
• গুগল ট্রেন্ডিং সার্চ ফলো করা
• বিভিন্ন নিউজ পেপার বা খবরের কাগজের শীর্ষ খবর গুলো দেখুন।
• আসন্ন বড় কোন অনুষ্ঠান কিংবা ইভেন্টের খোঁজ রাখুন।
• যে টপিকসটি নিয়ে লিখতে যাচ্ছেন সেই টপিকটির উপর গুগলের টপ কন্টেন্ট গুলো দেখুন এবং খেয়াল করুন তারা কোন ধরনের কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করেছে।
সর্বোপরি কি ওয়ার্ডের পাশাপাশি কন্টেন্টের লেখার ভাষা এবং শব্দগুলোও স্বচ্ছ হতে হবে। ভুলভাল বাক্য কিংবা বেশি বানান ভুল হলে সেটি ভালো ট্রাফিক নাও আসতে পারে।
আর্টিকেল লেখার সঠিক নিয়ম
একেকজনের লেখার ধরন একেক রকম। তবে ব্লগ সাইট থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য আর্টিকেল লেখার সঠিক নিয়ম মানতে হবে।
প্রথমত, নির্দিষ্ট একটি ফোকাস কিওয়ার্ড চুস করতে হবে কন্টেন্টের উপর ভিত্তি করে। ধরুন আপনি লিখতে চাচ্ছেন ওজন কমানোর উপর একটি বড় লিখা। এই ক্ষেত্রে “ওজন কমানোর উপায়” হতে পারে ফোকাস কিওয়ার্ড। এই কিওয়ারটি অবশ্যই কনটেন্টের প্রথম প্যারাতে একবার ব্যবহার করতে হবে। সেই সাথে দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ করাতেও থাকতে হবে। কনটেন্ট যদি 500 কিংবা তার বেশি শব্দের হয় তাহলে কমপক্ষে ৪ বার ফোকাস কি ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে
দ্বিতীয়তঃ, কোন ওয়েবসাইট কিংবা গুগলের কোন অংশ হতে কারো লেখা সরাসরি কপি করা যাবে না। এভাবে একদিকে জানা যেমন কপিরাইটের সমস্যা হতে পারে অপরদিকে কনটেন্টটি গুগলে ইনডেক্স নাও হতে পারে।
তৃতীয়তঃ, একই ধরনের বাক্য আমরা বারবার ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে করে লিখার মান কমে যায়। আবার অনেকেই চেষ্টা করেন অযথা বাড়তি কথা লিখে কনটেন্টকে বড় করা। এটাও একদমই উচিত নয়।
তৃতীয়ত, অনেক সময় তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রেফারেন্স উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে এসে রেফারেন্সের নাম এবং সোর্সসহ এড্রেসটি যুক্ত করে যেতে পারেন।
চতুর্থ তো, কনটেন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট এক বা দুইটি গ্রাফিক্স অথবা ছবি যুক্ত করুন।
আশা করি উপরে লেখাটি পড়ার পর আপনারা ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতির সম্পর্কে কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন। আয় রোজগারের কোন পথেই সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য। তবে যারা কিনা লেখালেখি করতে পছন্দ করেন কিংবা ঘরে বসেই কিছু অর্থ উপার্জন করতে চান তাদের জন্য ব্লগ ওয়েবসাইট হতে পারে একটি ভালো উপায়।
“বাংলা ব্লগ সাইট বানিয়ে গুগল থেকে আয়ের উপায়”-এ 2-টি মন্তব্য