কোন ধরনের শারীরিক অসুস্থতা ছাড়া যদি তোমার মনে হয় কাজটা এখন না করে পরে করব কিংবা ভালো লাগছেনা তাহলে বুঝবো তুমি অলসতার শিকার হয়েছো। অলসতা দূর করার উপায় কিংবা অলস জীবন যাপন বদলানোর বাস্তব কয়েকটি ট্রিক আজকে আমি সবার সাথে শেয়ার করব। কারণ প্রতিদিন একই কাজ করতে করতে আমরা অনেক টাই নিস্তেজ হয়ে যাই। আর পেশাগত জীবনে যদি এই আলস্যের প্রভাব পড়ে তাহলে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নেমে আসতে পারে নেতিবাচক প্রভাব।
অলসতা দূর করার উপায়
মূলত অলসতা হচ্ছে কর্মহীন থাকার শারীরিক এবং মানসিক ইচ্ছা। সোজা কোথায় কোন ধরনের কাজ না করে নিজেকে সবসময় নিষ্ক্রিয় থাকার ইচ্ছা নামই হচ্ছে অলসতা। তোমাদের জন্য অলসতা দূর করার উপায় গুলি নিচে তুলে ধরা হলো।
১. কারণগুলো বুঝতে চেষ্টা করো
অলসতা দূর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেই বস্তুগুলো আমাদেরকে অলস থাকতে সাহায্য করে সেগুলো থেকে দূরে থাকা। যেমন: মোবাইল ফোন, টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদি। এইসকল বস্তু থেকে দূরে থেকে লেখালেখি, ড্রাইভিং কিংবা হাতের কোন কাজ করার অভ্যাস করে তোলো।
২. ছোট ছোট পদক্ষেপ
বড় কোন কিছু একেবারেই করা সম্ভব নয়। তার জন্য ছোট ছোট অলস সময় কাজে লাগাতে হবে। যেমন বিকেল বেলার কিছু সময় মোবাইল না চালিয়ে বাইরে হাঁটতে যাওয়া কিংবা নতুন কোন কিছু শেখার চেষ্টা চালানো। এতে করে ছোট এই পদক্ষেপটি একদিন বড় কিছু উপহার দেবেন।
৩. নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা
অলসতা দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে এটি সবচাইতে কার্যকরী। একই কাজ প্রতিদিন করতে করতে আমরা মানসিকভাবে বিরক্ত হয়ে যাই। তাই নতুন কোন অভ্যাস গড়ে তোলা যেটা কিনা তোমাকে নতুন কিছু শিক্ষা দিবেন।
৪. কাজ ও ফলাফল নিয়ে ভাবা
অনেকেই আছেন যারা কিনা সারাদিন বসে বসে পরিকল্পনা করে বেড়ায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। তাই সবসময় সমস্যাগুলি নিয়ে না ভেবে কাজ এবং তার ফলাফল নিয়ে ভাবা উচিত। এতে করে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
৫. ব্যায়াম করা
শরীর যদি সুস্থ না থাকে তাহলে অলসতা সেই শরীরে অলসতা বাসা বাঁধবে। তাই সারাদিনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট সময় বের করতে হবে ব্যায়ামের জন্য। এতে করে শরীরে এনার্জি থাকবে এবং কাজও মন বসবে।
৬. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, ভাজাপোড়া কিংবা চা ক্যাফেইন আমাদের শরীরকে ধীরে ধীরে অলসতার দিকে ঠেলতে থাকে। চেষ্টা করবেন উচ্চ পরিমাণে প্রোটিনযুক্ত খাবার সবুজ শাক সবজি এবং পানি খাবার।
৭. সকালবেলা ঘুম থেকে উঠা
দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে এমনিতে সব কাজে দেরি হয়ে যায় এবং অলস ভর করে। তাই ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করা অলসতা দূর করার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম।
৮. Pomodoro পদ্ধতি
কাজের মাঝখানে যদি মনোযোগ দূর হয়ে যায় তাহলে অলসতা এসে ভর করে। তাই কমপক্ষে ২৫ মিনিট যেকোনো মনোযোগ সহকারে করার অভ্যাস প্রয়োজন হতে হবে। তারপর পাঁচ মিনিট দেরিতে দিয়ে কাজটি আবার শুরু করা। এটি মনোযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
কাজ করতে ইচ্ছা না করার কারণ
কোন কাজের প্রতি অনিহা তৈরি হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
• মানসিক অবসাদ
• বিষন্নতা বা মানসিক সমস্যা
• কাজের প্রতি অস্পষ্টতা
• নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের অভাব
• কাজকে ভয় পাওয়া
• একই কাজ বারবার করতে করতে একঁঘেয়েমি
• যথেষ্ট দক্ষতার অভাব
• পরিকল্পনাহীনতা
• শারীরিক ক্লান্তি বা অসুস্থতা
যদি উপরোক্ত কোনো সমস্যায় আপনি বসে থাকেন তাহলে নিজেকে শান্ত রেখে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করুন। যেকোনো কাজে পূর্ণ মনোযোগ এবং সেই কাজের প্রতি গবেষণা যে কারো দক্ষতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। আর শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন
অলস মানুষের জন্য ডেইলি রুটিন
একটি সঠিক রুটিন আপনার অলসতা দূর করে কর্মক্ষম জীবন উপহার দিতে পারে। চলুন সেরকমই একটি রুটিন সম্পর্কে জানা নাই।
• সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বিছানা গুছিয়ে ফেলুন এবং এক গ্লাস পানি পান করুন। এরপর ফ্রেশ হয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা ব্যয়াম করুন।
• সকালবেলা একটি স্বাস্থ্যকর বা পুষ্টিকর নাস্তা দিয়ে দিন শুরু করুন।
• দিনের সবচেয়ে কঠিন বা জরুরি কাজটি সবার আগে করুন এতে করে বাকি সময় অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকা যায়।
• দুপুরের বিরতিতে আবারো স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং কিছু সময় বিরতি দিন।
• বিকেলবেলা হালকা ব্যায়াম করুন কিংবা হাঁটুন অথবা এমন কোন পছন্দের কাজ করুন যেটি আপনাকে আনন্দ দেয়।
• সন্ধ্যাবেলা হালকা নাস্তা করতে পারেন। সেই সাথে পরবর্তী দিনের জন্য জরুর কাজগুলো গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমান এর কাছে।
• সন্ধ্যা পরবর্তী সময় কিছুটা বিনোদনমূলক কাজ করতে পারেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্ভব কম ব্যবহার করা উত্তম।
রাতে ঘুমানোর কমপক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে নিন এবং ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘন্টা আগে থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা বন্ধ করুন।
নিজেকে একটিভ রাখার মানসিক কৌশল
অলসতা দূর করে নিজেকে একটিভ রাখার জন্য মানসিক সত্যিই খুবই জরুরী। আমাদের জীবনের ব্যর্থতা, নানা ধরনের চিন্তাভাবনা গুলি সব সময়ই মনোযোগ ব্যাহত করতে থাকে। এই ক্ষেত্রে মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম সতর্কতা বাড়ায় এবং কার্যক্রমে মনোযোগ ধরে রাখে।
তবে নিজেকে একটিভ রাখার কৌশল গুলোর মধ্যে সবচাইতে অন্যতম হচ্ছে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা। এতে করে যতক্ষণ না পর্যন্ত লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন ততক্ষণ পর্যন্ত মস্তিষ্ক আপনাকে জানান দিবে যে এখন বসে থাকার সময় নয়। তাছাড়া চেষ্টা করুন নেতিবাচক বা বিষাক্ত মানুষ থেকে দূরে রাখা। পজেটিভ এবং আশাবাদী মানুষের সাথে থাকলে আপনার মধ্যে অবশ্যই আশাবাদী মনোভাব তৈরি হবে।
Procrastination থেকে বের হওয়ার উপায়
• কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগ করে নিন যাতে করে তাদের তালিকা দেখলে মনে লাগে।
• কাজের মাঝে মাঝে পাঁচ মিনিট করে বিরুদ্ধে নিন এবং হালকা ব্যায়াম করুন।
• কঠিন কাজগুলো আগে শুরু করুন
• কাজ করার সময় আশেপাশের গোলমাল থেকে নিজেকে দূরে রাখুন
• মাঝে মাঝে নিজেকে পুরস্কৃত করুন
• পরের দিনের জন্য কাজ জমিয়ে রাখবেন না
• দেরি হয়ে গেলে অপরাধ বলে না ভোগে নিজেকে ক্ষমা করে দিন।
তো বন্ধুরা, চলো এখন থেকে আর কোন কাজ ফেলে না রেখে নতুন উদ্যমে কাজে লেগে পরি। অলসতা দূর করার উপায় গুলি কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্টে জানাবে। সেই সাথে তোমার সে সকল অলস বন্ধুদের সাথে আর্টিকেলটি শেয়ার করে দেওয়া যাতে তারাও এই বাজে অভ্যাসটি ত্যাগ করে ক্যারিয়ারের সফল হতে পারে।
@@@